স্বাধীনতা দিবস বয়কটের ডাক উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন জঙ্গি সংগঠনের! নজরদারি চিকেনস নেকে
প্রতিদিন | ১২ আগস্ট ২০২৬
‘সেভেন সিস্টার’-কে অশান্ত করতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে ফের জঙ্গি তৎপরতা! দেশের স্বাধীনতা দিবস বয়কটের ডাক ‘ইউনাইটেড লিবারেশন আর্মি অফ অসম (ইন্ডিপেন্ডেন্ট), এনএসসিএন ও জিপিআরএন-এর। সোমবার তিনটি জঙ্গি সংগঠন যৌথভাবে এক বিবৃতিতে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান বর্জনের ডাক দিয়েছে। ওই বিবৃতি প্রকাশের পর ‘চিকেনস নেক’-সহ অসম লাগোয়া উত্তরের জেলাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ‘স্বাধীনতা দিবস’ উদযাপনের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনও ভারতীয় ‘দখল’ এবং ‘ঔপনিবেশিক শাসনের’ অধীনে রয়েছে। দাবি, অসমের জনগণ এবং নাগা সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতি রয়েছে। তাদের পৈতৃক অঞ্চলে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা উচিত নয়। সংগঠনগুলো এই অঞ্চলের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিরও সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক পরাধীনতাকে স্বাভাবিকীকরণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
ওই বিবৃতি প্রকাশের পর শুধু অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর ও নাগাল্যান্ড নয়। অসম লাগোয়া উত্তরের জেলাগুলোতেও মঙ্গলবার থেকে গোয়েন্দা নজরদারি বেড়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল অসমের শিবসাগরের ঐতিহাসিক রংঘর প্রাঙ্গণে ‘ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম (আলফা)’ নামে জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নেতৃত্বে ছিলেন পরেশ বড়ুয়া, অরবিন্দ রাজখোয়া, অনুপ চেটিয়া প্রমুখ। ১৯৮৩ সালে নাগাল্যান্ডের জঙ্গি সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড’ এবং ১৯৮৭ সালে মায়ানমার ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মি’-র সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে আলফা অস্ত্র সংগ্রহ করে নাশকতা চালিয়ে যায়।
১৯৯০ সালে ভারত সরকার আলফা জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। শুরু হয় সেনা অভিযান। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুটান, বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং চিনে আলফাদের শিবির ছিল। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে রয়্যাল ভুটান আর্মি ‘অপারেশন অল ক্লিয়ার’ অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ ভুটানে আলফা, এনডিএফবি এবং কেএলও-দের ঘাঁটি গুড়িয়ে দেয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে আলফার চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ ধরা পড়েন। এদিকে ২০১১ সালে আওয়ামী লিগের পূর্ববর্তী সরকার বাংলাদেশে আলফার সব ঘাঁটি ভেঙে দিতে বড় ধরনের অভিযান চালায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর চাপ বাড়তে থাকে। আলফা দুর্বল হয়ে পড়ে। সংগঠনটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বাড়তে থাকে এবং দুটি ভাগে বিভক্ত হয়।
অরবিন্দ রাজখোয়ার নেতৃত্বাধীন সংগঠনের একাংশ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করে। অন্য অংশটি পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ছিল। তারা সেটা প্রত্যাখ্যান করে। ২০১৩ সালে আলফার ওই গোষ্ঠী ‘উলফা-ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। গোয়েন্দারা জেনেছে, আলফা (আই)-র সর্বাধিনায়ক পরেশ বড়ুয়া চিন-মায়ানমার সীমান্তে চিনের ইউনান প্রদেশে আত্মগোপন করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ ‘সেভেন সিস্টার্স’ এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বাড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। ওই কারণে সোমবারের বিবৃতিকে মোটেও হালকাভাবে দেখছেন না গোয়েন্দারা।