রাজ্যে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান! পুরসভা ও সমবায়তে নিয়োগ করবে পিএসসি, জারি বিজ্ঞপ্তি
প্রতিদিন | ১২ আগস্ট ২০২৬
নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত করতে ইউপিএসসির মডেলে রাজ্যের নিয়োগ পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে তৎপর বিজেপির সরকার। এবার পুরসভা ও সমবায়তে নিয়োগ করবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। গত ৩০ জুলাই রাজ্যের নিয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে সমবায় ও পুরসভায় নিয়োগের দায়িত্ব পিএসসিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে এবিষয়ে জানান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আমলা অনিল বর্মা। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় ৮০০৬টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে পিএসসি ৷ এবিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে কয়েক হাজার শূন্যপদ আছে। মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার থেকে মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন এবং কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশনের অধীনস্থ সব নিয়োগের দেখাশোনা করবে পিএসসি। গ্রুপ এ, বি ও সি মিলিয়ে মোট ১৭ হাজার ৭১৪টি পদে নিয়োগ করা হবে। গ্রুপ এ ক্যাটাগরিতে ২,৪৯০টি শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এর মধ্যে ডব্লুবিসিএস (এগজিকিউটিভ), জুডিশিয়াল অফিসার, লিগ্যাল সার্ভিস, পুলিশ, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস সার্ভিস, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদ রয়েছে। গ্রুপ বি ক্যাটাগরিতে রয়েছে ২,৮৪৮টি শূন্যপদ। গ্রুপ সি বা ক্ল্যারিক্যাল ক্য়াটাগরিতে রয়েছে ১২,৩৭৬টি শূন্যপদ। খুব তাড়াতাড়ি ৮,০০৬টি নতুন শূন্যপদ পূরণের জন্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চলেছে পিএসসি। রাজ্য সরকারের ঘোষণা মতো এই নিয়োগে চাকরিপ্রার্থীরা বর্ধিত বয়সের বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পাবেন।
এই বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান অনিল বর্মা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অনুযায়ী এখন থেকে পুরসভা ও কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের বিষয়টিও দেখভাল করবে পিএসসি ৷ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ৷”
এর আগে নিয়োগের পরীক্ষা নিয়ে একাধিক অভিযোগ থাকত চাকরি প্রার্থীদের। তার মধ্যে অন্যতম হল, ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ার অভিযোগ। এই নিয়েও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামিদিনে নিয়োগের পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলপ্রকাশ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হবে না। এছাড়াও যে পরীক্ষাগুলি বাকি আছে সেগুলিও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বার্ষিক পরীক্ষার ক্যালেন্ডার যাতে কঠোরভাবে মেনে চলা হয়, তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন অনিল বর্মা। এদিন নিয়োগে দুর্নীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্ন, “পিএসসি চেয়ারম্যান অনিল বর্মার নাম শুনে কি মনে হচ্ছে যে দুর্নীতি করার সুযোগ আর কেউ পাবে?”