• রাঁচিতে বিধানসভা অভিযানে ধুন্ধুমার, চলল জলকামান-লাঠি-কাঁদানে গ্যাস
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • রাঁচি: হাতে হাতে উড়ছে জাতীয় পতাকা। প্ল্যাকার্ডগুলিতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া-স্লোগান। পুলিশের একের পর এক ব্যারিকেড পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন অগণিত তরুণ-তরুণী। বিধানসভার অভিমুখে। জলকামানের তোড় অগ্রাহ্য করে তাঁরা দু’হাত তুলে নাচছেন। রাস্তার ধারে সার দিয়ে বসে গান ধরেছেন, ‘গাঁও ছোড়ব নাহি, জঙ্গল ছোড়ব নাহি/ মাই-মাটি ছোড়ব নাহি, লড়াই ছোড়ব নাহি’। তালে তালে চলছে হাততালি। ঝাড়খণ্ডে প্রতিবাদী পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ ‘বিধানসভা অভিযান’ তাল কাটল শেষ লগ্নে এসে। রাঁচিতে নব বিধানসভা ভবনের মাত্র ২০০ মিটার দূরে পুলিশের সর্বশেষ ব্যারিকেডের সামনে সোমবার তৈরি হল ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে ওই শেষ ব্যারিকেডটি পেরিয়ে প্রতিবাদীরা বিধানসভায় ঢোকার চেষ্টা করতেই মারমুখী হয়ে উঠল পুলিশ। চলল জলকামান, লাঠি, কাঁদানে গ্যাস। জখম হলেন একাধিক তরুণ-তরুণী। চোট পেলেন পুলিশকর্মীরাও। তবে দিল্লির যন্তরমন্তরের মতো পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ এক্ষেত্রে ওঠেনি। আর এদিনের এই অশান্তির মধ্যেই সরকারি চাকরির নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ঝাড়খণ্ড পিএসসি–র প্রাক্তন চেয়ারপার্সন এল খিয়াংটেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। জেপিএসসি-র তিন সদস্য ইস্তফা দেওয়ার পরের দিনই প্রাত্ন চেয়ারপার্সনকে গ্রেপ্তার করা হল। অতিরিক্ত ডিজি (সিআইডি) মনোজ কৌশিক এদিন খিয়াংটের গ্রেপ্তারির এই খবর জানিয়েছেন। ২২ জুলাই ইস্তফা দেওয়ার পর ২৮ জুলাইয়ে থেকে মোট চারবার খিয়াংটেকে জেরা করেথিল সিআইডি। এদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী সুদিব্য কুমারের অভিযোগ, বিজেপি তাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার স্বার্থে এই আন্দোলনকে ‘হাইজ্যাক’ করেছে। বিধানসভার বাইরে তিনি বলেন, সরকার চাকরিপ্রার্থীদের ৯৫ শতাংশ দাবি পূরণ করা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।

    বিধানসভা অভিযানে অংশ নেওয়া বহু প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী এদিন পুলিশি পদক্ষেপে জখম হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। পীযূষ কুমার সোনি নামে এক তরুণ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলাম, কিন্তু সরকার আমাদের বিরুদ্ধে লাঠি ব্যবহার করেছে। জখম হয়েছে বহু ছাত্রীও। ওরা কেবল শারীরিক আঘাত হানতে পারে, আমাদের ভাবনার ক্ষতি করতে পারবে না। হাজারিবাগ থেকে আসা বিক্রম কুমারের দাবি, তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে। এই প্রতিবাদীর তোপ, হেমন্ত সোরেন সরকার আমাদের সঙ্গে যেধরনের আচরণ করছে, তা ঠিক নয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলাম। পুলিশ লাঠি চালাল কেন? অন্য এক তরুণ বলেন, আমরা শেষ পর্যন্ত যদি বিধানসভায় পৌঁছাতে নাও পারি, আমাদের কণ্ঠ সেখানে পৌঁছে যাবে। তবে পুলিশের বাধা পেরিয়ে ভিন্ন পথে কিছু প্রতিবাদী পড়ুয়া বিধানসভা চত্বরে ঢুকে পড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, সোমবার ছিল মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের ৫১তম জন্মদিন। বিধানসভার ভিতরে অধিবেশন চলার মধ্যেই বাইরে এদিন খণ্ডযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হল। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গত ৯ দিন ধরে অনশন চালানো জেএলকেএম নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতও এদিন অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে যোগ দেন ছাত্রছাত্রীদের মিছিলে। তাঁর হাতে ছিল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর বাবা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের ছবি। মাহাত বলেন, অবিচারের শিকার হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। সরকারি সূত্রে খবর, বিধানসভাগামী ৪ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীগুলির প্রায় দেড় হাজার কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রতিবাদীদের সঙ্গে সরকার একাধিক দফায় আলোচনা করা সত্ত্বেও সমাধানসূত্র এখনও অধরা।
  • Link to this news (বর্তমান)