• সীমান্তে জমি নিয়ে বচসা থেকে গুলির লড়াই, অসমে আহত ১২
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • গুয়াহাটি, ১১ আগস্ট: জমি কার এই নিয়ে চলছিল দীর্ঘ বচসা। এবার সেই বচসা ভয়ঙ্কর রূপ নিল অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে। জমি দখলকে কেন্দ্র করে ধেমাজি জেলার গোগামুখ এলাকার মিংমাং বস্তি এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় অরুণাচল প্রদেশের দিক থেকে দুষ্কৃতীদের গুলি চালনার অভিযোগ উঠল সোমবার। ঘটনায় অসমের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অসমের জমিতে অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাদের অনুপ্রবেশ ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিবাদ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষের আকার নেয় এবং অভিযোগ, সীমান্তের ওপার থেকে অসমের বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। মোট ১২ জন গুরতর আহত হন। আহতদের প্রথমে গোগামুখ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অসম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। 

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং উত্তেজনা অনেকটাই কমেছে। তিনি বলেন, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য অসমের শিক্ষামন্ত্রী রণোজ পেগুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ আধিকারীকরাও পরস্পরের সঙ্গে যোগযোগ রাখছে। 

    উল্লেখ্য, দুই রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিয়ে বিরোধ রয়েছে। অসম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে প্রায় ৮০৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা রয়েছে। এই সীমান্তের প্রায় ১,২০০টি এলাকা নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে সরকারি তথ্য। গত ২৯ জুলাই অসম বিধানসভায় রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, অরুণাচল প্রদেশ অসমের ১৬,১৪৪.০১ হেক্টর জমি দখল করেছে বলে তাদের অভিযোগ। সীমান্ত সমস্যা মেটাতে দুই রাজ্য ১২টি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করেছে। ২০২২ সালের ১৫ জুলাই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে নামসাই ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে একটি মউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অসমের দাবি করা ১২৩টি গ্রামের মধ্যে ৭১টি নিয়ে বিরোধ মেটানো সম্ভব হয়েছে বলে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন। বাকি ৫২টি গ্রামের বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)