• কালনায় ‘জয় শ্রীরাম’ ও মোদি, শুভেন্দুর ছবি দেওয়া রাখির কদর
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কালনা: আর ক’দিন বাদেই রাখি পুর্ণিমা উৎসব। কালনার রাখী শিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। রাজ্যে পালা বদলে রাখীর ডিজাইনেও এসেছে বদল। রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, নেতাজীর ছবির পাশাপাশি এবার স্থান পেয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ছবির সঙ্গে জয় শ্রীরাম রাখি। রঙেও হয়েছে গৈরিকিকরণ। চাহিদা বেশ ভালো বলেই জানাচ্ছেন রাখি শিল্পের কারবারিরা। তবে, এবার সরকারি ভাবে কালনার শিল্পীরা কোনো রাখির বরাত পাননি। ফলে খানিক হতাশ শিল্পীরা।

    কালনার রাখি শিল্পের সুনাম আজ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। কালনা শহর ও শহরতলিতে ছোটো বড়ো মিলিয়ে আট-দশটি রাখি তৈরির বেসরকারি কারখানা রয়েছে। শহরের শ্যামগঞ্জপাড়ায় একটি সরকারি  ক্লাসটার রয়েছে। কয়েক’শো মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। পুরুষ শিল্পী থাকলেও এই শিল্পে মুলত মহিলারা বেশি যুক্ত। ঘরে বসে বা কারখানায় গিয়ে রাখি তৈরি করেন। দিনকে দিন এই শিল্পে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। আজ আধুনিকতার ছোঁওয়ায় স্টোন, পুতি, জড়ি, চুমকি সহ নানা দৃষ্টিনন্দন জিনিস দিয়ে তৈরি হচ্ছে রাখি। পরিবেশ বান্ধব পাট দিয়েও রাখি তৈরি হচ্ছে। 

    বিভিন্ন মণীষীদের পাশাপাশি এবার প্রধানমন্ত্রী মোদি থেকে রা঩঩জ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া রাখিরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রঙে এসেছে গৈরিকিকরণ। ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা রাখির চাহিদা একটু বেশিই।  বিগত বছরগুলিতে সাধারণ রাখির সঙ্গে সরকারি ভাবে কয়েক লাখ রাখি তৈরির বরাত পেতেন কালনার কারবারিরা। কিন্তু এবার সরকারি ভাবে কোনো রাখির বরাত নেই।

    রাখি শিল্পী অনামিকা দে চৌধুরী, সায়ন্তিকা পালরা বলেন, রাখি তৈরিতে খুবই ধৈর্য ও শিল্প ভাবনার নজর থাকা দরকার। তবে, পরিশ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক নেই। তবে, ঘরে বসে বা ক্লাসটারে গিয়ে সংসারের কাজের ফাঁকে স্বাধীন ভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে একাজ করা যায়। মাসে ৫-৬ হাজার টাকা রোজগার হয়। 

    উইভার্স আর্টিজেন ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক তপন কুমার মোদক বলেন, বিগত সাত বছর ধরে সাধারণ রাখি তৈরির সঙ্গে সরকারি কয়েক লক্ষ রাখি তৈরির বরাত পেয়েছি। এবার এখনও কোনো বরাত আসেনি। তবে, এমনিতে রাখির চাহিদা বেশ ভালো।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)