• দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি অনুদান অনিশ্চিত, কমছে প্রতিমা তৈরির বরাত, দুশ্চিন্তায় করিমপুরের মৃৎশিল্পীরা
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, করিমপুর: দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে প্রতিবছর রথের সময় থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয় করিমপুরের প্রতিমা শিল্পীদের। কিন্তু এবছর সরকারি অনুদান নিয়ে ধোঁয়াশায় এলাকার পুজো কমিটিগুলি। ফলে করিমপুরে প্রতিমার বায়না কমে গিয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা। তাঁরা জানান, চলতি বছরে চেনা ব্যস্ততা নেই। এছাড়া প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম দিনের পর দিন বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না প্রতিমার দর। তার উপর পুজোয় সরকারি অনুদান মিলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে পুজো কমিটিগুলির একাংশ যখন সম্ভাব্য খরচ কমানোর পরিকল্পনা করছে, তখন বড় প্রতিমার বায়না না আসায় উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পীদের মধ্যে। করিমপুরের প্রতিমা শিল্পী প্রশান্ত মালাকার বলেন, চলতি মরশুমে বড় প্রতিমার চাহিদা অনেকটাই কম। পাটের দড়ি, খড়, কাপড়, রং-সহ প্রায় প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে। অথচ সেই তুলনায় প্রতিমার দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিমা তৈরি করে শেষ পর্যন্ত কতটা লাভ থাকবে, তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছি। হোগলবাড়িয়া থানার মহেশেরপাড়ার শিল্পী নীরেন মালাকার জানান, প্রতিবছর তিনি প্রায় ১৪টি প্রতিমা তৈরি করেন এবং রথের সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ বায়না হয়ে যায়। কিন্তু এবার উল্টোরথ পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো প্রতিমা তৈরির বরাত পাননি। তাঁর দাবি, উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিমার দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তাদের একাংশ পিছিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি অনুদান মিললে তবেই তুলনামূলক বেশি দামের প্রতিমা নেওয়ার কথা অনেক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন বলেও তাঁর দাবি। উদ্যোক্তাদের একাংশের দাবি, গত বছর বিভিন্ন পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পেয়েছিল। কিন্তু এ বছর সরকার পরিবর্তনের পর সেই অনুদান দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পুজোর পরিকল্পনাতেও। অনুদান না এলে অতিরিক্ত খরচ সামলানো কঠিন হতে পারে। এই আশঙ্কায় অনেক কমিটিই বাজেট পুনর্বিবেচনা করছে। করিমপুরের লক্ষ্মীপাড়া যুবগোষ্ঠীর পুজোর বাজেট গত কয়েক বছর প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ছিল। এবার তা কমিয়ে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে রাখার পরিকল্পনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শিল্পীদের মতে, বাজেট কমার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রতিমার বায়নায়। যদিও ৫৪ বছরের পুরনো দুর্লভপুর দুর্গোৎসব কমিটির সদস্য সুখেন দাস জানান,  সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর না করে এবার পুজোর বাজেট বাড়িয়েছি। প্রতিমার জন্য গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ হাজার টাকা বেশি খরচ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মাটির দাম বৃদ্ধি নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে শিল্পীদের। প্রতিমা শিল্পী রানা মালাকার জানান, আগে এক ট্রাক্টর মাটির জন্য যেখানে প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হত, সেখানে এবার ৫ হাজার টাকা দিয়েও মাটি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিমা তৈরির মরশুমে বায়না কমে গেলে শিল্পীদের পাশাপাশি শ্রমিক ও অন্যান্য কারিগরদেরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)