ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সরকারি নোটিস, শুরু ক্ষোভ-বিক্ষোভ
বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া পুরসভার প্রস্তাবিত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সরকারি নোটিস জারি হতেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্ষোভ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বন্দর শহরে নতুন বিন্যাসের মাধ্যমে একটি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ৩০টি ওয়ার্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ২৯টি। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে পুরনো বিভিন্ন ওয়ার্ডের এলাকা রদবদল হয়েছে। এরফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে চলেছেন বলে অভিযোগ। এনিয়ে সরব হলেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। মূলত ওয়ার্ড অফিস বদল হওয়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কোথাও ওয়ার্ড অফিস ছিল শহরে, সেখানে নতুন বিন্যাসের ফলে বাসিন্দাদের যেতে হবে তিন কিলোমিটার দূরে গ্রামে। কোথাও আবার নতুন ওয়ার্ড অফিসে পৌঁছতে বাড়তি গাড়ি ভাড়া লাগবে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রশাসনিক প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন হলদিয়ার পুরনো ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চিবেড়িয়া ও হরিপুর গ্রামের বাসিন্দারা। প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২৫ ও ১২৫এ নম্বর বুথ অর্থাৎ হরিপুর ও বিরিঞ্চিবেড়িয়া মৌজাকে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে নতুন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এরফলে ওই দুই এলাকার বাসিন্দাদের এবার ওয়ার্ড অফিসে কাজের জন্য শহরের পরিবর্তে উল্টোদিকে নদীর পাড়ে গ্রামের দিকে যেতে হবে।
প্রস্তাবিত ওয়ার্ড বিন্যাসের বিরোধিতা করে মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি স্মারকলিপিও জমা দিলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। বিরিঞ্চিবেড়িয়ার বাসিন্দা রাহুল কুমার দাস বলেন, আমাদের এলাকা ভেঙে নতুন একটি ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই কাজ করতে গিয়ে মানুষকে বিপাকে ফেলা হচ্ছে। ওয়ার্ড অফিস বদলে গেলে সিংহভাগ মানুষের কাজের সমস্যা হবে। দলমত নির্বিশেষে আলোচনা করে তারপর মহকুমাশাসককে এক হাজার বাসিন্দার সই করা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বিধায়ক, জেলাশাসক ও পুরমন্ত্রীকেও এই বিষয়ে আমরা চিঠি দেব। বিরিঞ্চিবেড়িয়ার বাসিন্দারা বলেন, এমনভাবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হোক যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষকে কোনও সমস্যার মুখে না পড়তে হয়। এলাকার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে গত ৫ আগস্ট পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন হলদিয়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও প্রস্তাবিত ৩০টি ওয়ার্ডের নোটিস জারি করেছে। নতুন খসড়া প্রস্তাবে পুরনো ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ ৩টি ওয়ার্ড ভেঙে চারটি ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়ায় পুরনো ২ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দরামপুর, বাসুলিয়া ও জগন্নাথপুরের সঙ্গে পুরনো ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চিবেড়িয়া ও হরিপুরকে নিয়ে নতুন ৬ নম্বর ওয়ার্ড গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া পুরনো ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিজবেড়িয়া এবং পুরনো ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব শ্রীকৃষ্ণপুর ও ধনবেড়িয়া মৌজা নিয়ে নতুন ৮ নম্বর ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া প্রস্তাবে পুরনো ওয়ার্ডের ক্রম বদলে ১ নম্বর হল ৭ নম্বর, ২ নম্বর হল ৮ নম্বর এবং ৩ নম্বর হল ৫ নম্বর। ওই এলাকাতেই ৬ নম্বর নতুন ওয়ার্ডের জন্ম হল। পুরনো ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর মৌজার একটি অংশও নতুন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। আবার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মনিচক ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে ১০, ১১, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমানা ও ওয়ার্ড নম্বর অপরিবর্তিত থাকছে। পুরসভার এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলেন, পুর বিধি অনুযায়ী এবারও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হয়নি। খসড়া নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভ রয়েছে। সিপিএম নেতা পরিতোষ পট্টনায়ক বলেন, প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাস রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে হয়েছে। তাছাড়া শুধুমাত্র একটি ওয়ার্ড কেন বাড়ানো হল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।