ডেবরায় চাকরি দুর্নীতি: টাকা প্রাপকের নাম জানতে সুমিতকে ম্যারাথন জেরা
বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেবরায় সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা মামলায় তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে সোমবার ম্যারাথন জেরা করল সিআইডি। পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরা তাঁকে টাকা পাঠিয়েছিলেন কি না সেই বিষয়ে তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয় বলে খবর। যদিও সুমিত গোটা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সিআইডি সূত্রের খবর, ডেবরায় সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে রাজ্যে পালাবদলের পর। তাতে উল্লেখ করা হয়—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুরসভা, পুলিশসহ বিভিন্ন বিভাগে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিসহ লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল। এই অভিযোগে নাম রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরা ও এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। এই মামলার তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। সুজয় হাজরার মোবাইলের চ্যাট দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযোগকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে ওই তৃণমূল নেতার। টাকা যে তাঁকেই পাঠানো হয়েছে তারও উল্লেখ রয়েছে। এমনকি সুজয়ের চ্যাট ঘেঁটে তদন্তকারীরা এও দেখেন, সরকারি চাকরি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিকবার কথা হয়েছে সুমিতের সঙ্গে। প্রতারিতদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা সুজয় যে ক্যামাক স্ট্রিটে সুমিতের কাছে পাঠিয়েছেন সেটিও উল্লেখ রয়েছে দুজনের চ্যাটে।
সেই প্রসঙ্গে জানতেই সোমবার অভিষেকের আপ্তসহায়ককে ডেকে পাঠানো হয়। এদিন বেলা ১১টা নাগাদ তিনি হাজির হন ভবানীভবনে। দীর্ঘ জেরায় তাঁর সামনে ওই চ্যাট তুলে ধরে জানতে চাওয়া হয়, সরকারি চাকরির বিষয়ে তিনি কী জানতেন? সুমিত জানান, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সুজয়ই বলতে পারবেন। তিনি সরকারের কেউ নন। চাকরি কীভাবে দেবেন? তিনি নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কমিটির মাথাতেও ছিলেন না। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। এরপর টাকা পাঠানোর প্রসঙ্গ আসে। এখানেও তিনি দাবি করেন, টাকা কেন তাঁকে পাঠানো হবে? সুজয় কোথায় কার কাছে টাকা পাঠিয়েছেন তা তাঁর জানা নেই। দীর্ঘ আট ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে ছাড়া হয়। এদিকে শালবনিতে জমি দুর্নীতি মামলায় রক্ষাকবচ পাওয়ার পরই নতুন চার মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সুমিতের আইনজীবী। এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা চলতি সপ্তাহে। তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য জানান, জমি দুর্নীতি মামলায় ৭ আগস্ট রক্ষাকবচের মামলার শুনানি হয়নি। সেটি যাতে দ্রুত হয় তার জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এই অবস্থায় নতুন মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হোক।