• দেহ হস্তান্তরে পুলিশকে চিঠি বিজেপি নেতার!
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনপ্রতিনিধি নন, পুলিশকে সুপারিশ করছেন এক বিজেপি নেতা! এমনই একটি সুপারিশপত্রকে ঘিরেঅভিযোগ উঠেছে। যে চিঠিকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে যাদবপুর-টালিগঞ্জ এলাকায়। 

    বিজেপি নেতার নাম দিলীপ কুমার চন্দ। পদ্মফুল আঁকা ভারতীয় জনতা পার্টির লেটারহেডে তাঁর পরিচয় লেখা— সভাপতি, ৯৫ নম্বর ওয়ার্ড, টালিগঞ্জ মণ্ডল-১, যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা। আগস্ট মাসের ৬ তারিখে তাঁর সই করা একটি সুপারিশপত্র সামনে এসেছে। যাতে এক মহিলার মৃতদেহ তাঁর ছেলেকে হস্তান্তর করার জন্য বলা হয়েছে। ছায়া সেন নামে ওই মহিলার ছেলের নাম সৈকত। এই চিঠি সামনে আসার পরই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। মৃতদেহ হস্তান্তরে বিজেপি নেতার পাঠানো এই সুপারিশপত্রকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই চিঠি সামনে আসার পর থেকে সাধারণ মানুষের নানা মতামত সামনে এসেছে। চিঠিটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কুণালের বক্তব্য, ‘এই চিঠিটি কি সত্যি? মৃতদেহ হস্তান্তরে বিজেপি পার্টির চিঠি দিতে হচ্ছে পুলিশকে? জনপ্রতিনিধির চিঠি পার্টির নেতা দেবেন? এটা সত্যি হলে বিপজ্জনক। খতিয়ে দেখা হোক।’ কুণালের পোস্ট করা চিঠির কমেন্ট বক্সে একাধিক ব্যক্তি লেখেন, ‘সবকিছু পার্টি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।’

    সাধারণত দেখা যায়, মৃতদেহ যিনি গ্রহণ করবেন, সেই ব্যক্তির সম্পর্কে জনপ্রতিনিধির দেওয়া সার্টিফিকেট বা শংসাপত্র গ্রহণ করা হয়। রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দিয়ে থাকেন কাউন্সিলর। প্রয়োজনবোধে অনেক ক্ষেত্রে বিধায়ক, সাংসদের মতো জনপ্রতিনিধিরা শংসাপত্র দেন।  সরকারি খাতায়, জনপ্রতিনিধিদের সার্টিফিকেটই গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে বিজেপি নেতার চিঠিটি কোন ভিত্তিতে পুলিশ গ্রহণ করল?

    প্রথমে চিঠির বিষয়টি জানতে স্বাক্ষরকারী বিজেপি নেতা দিলীপ কুমার চন্দকে ফোন করা হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘এবিষয়ে যা বলবার আমার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলবেন।’তারপর বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দারকে ফোন করা হয়। প্রথমে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। চিঠিটি দেখিনি। চিঠিটি আমাকে একবার দেখান। তারপর বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।’ সেইমতো মনোরঞ্জনবাবুকে হোয়াটস অ্যাপে চিঠিটি পাঠানো হয়। প্রশ্নকরা হয়, বিজেপি নেতার পাঠানো এই চিঠিটি সঠিক কিনা? কিছুক্ষণ পর হোয়াটসঅ্যাপ কল করে মনোরঞ্জনবাবু বলেন, ‘আমি চিঠির বিষয়ে কথা বলেছি। পুলিশ থেকে বলেছিল বলেই দিলীপ কুমার চন্দ ওই চিঠি লিখে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে আমরা এই ধরনের ঘটনায় সচেতন ও সতর্ক থাকব।’ এই চিঠি সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি সাউথ রাহুল দে’কে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ করা হয়। তিনি কোনো উত্তর দেননি।
  • Link to this news (বর্তমান)