মৃত্যু লক আপেই, ময়নাতদন্তে জানা যাবে অত্যাচার: শুভেন্দু, মৃতের স্ত্রীকে চাকরি
বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: হালিশহর থানার লক আপে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেয়টের মৃত্যুর নেপথ্যে ছিল পুলিশের গাফিলতি। হয়েছে অত্যাচারও। এই অভিযোগই স্বীকার করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাফ জানালেন, কী পর্যায়ে অত্যাচার হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই বলা যাবে। আর পুলিশি গাফিলতির সাজা? বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ওই এলাকা থেকেই ঘোষণা করলেন, হালিশহর থানার আইসি তমাল দত্তকে ক্লোজ করা হল। তাঁর জায়গায় আসছেন সুরেন্দ্রকুমার সিং। সাসপেন্ড করা হয়েছে তদন্তকারী অফিসার ফিরোজ মল্লিককে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য জেলাশাসককে ম্যাজিস্ট্রিয়াল এনকোয়ারির দায়িত্বও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী জেনি শর্মাকে (প্রাক্তন কাউন্সিলার) অ্যাটেন্ডেন্টের চাকরি এবং ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকার চেকও তুলে দিয়েছেন শুভেন্দু। যদিও পুলিশের এই শাস্তিতে খুশি নন স্ত্রী জেনি শর্মা। তিনি গোটা ঘটনা এবং বিচারের দাবি লিখিত আকারে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। দোষী পুলিশ অফিসারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেছেন জেনি। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করবেন বলেও জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের হুমকি ও তোলাবাজির এক মামলায় শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয় বিরজুকে। শনিবার সকালে বিরজু ‘অসুস্থ হয়ে পড়ায়’ হালিশহর থানার পুলিশ কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে রেখে দিয়ে চলে আসে তাঁকে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, বিরজুর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। স্ত্রী জেনি অভিযোগ করেন, পুলিশ হেপাজতে হাত বেঁধে মারার জন্যই মৃত্যু হয়েছে স্বামীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। রবিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে হালিশহরে বিরজু কেয়টের বাড়ি যান মমতা। যাওয়ার পথে আক্রান্তও হন। তবে তাঁর সঙ্গে জেনি শর্মা দেখা করেননি। সোমবার অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী গেলে সাক্ষাৎ করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজধর্ম পালনের জন্যই রাজনৈতিক ভিন্নমতের এক কর্মীর বাড়িতে তিনি এসেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আমলে ৩১৫ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। একদিনও কারও বাড়ি গিয়েছেন তিনি? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জেড প্লাস সিকিওরিটি পান। এখানে আসার আগে কাউকে জানিয়েছেন? জানালে ব্লু বুক অনুযায়ী যথোপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকত। তবে তাঁকে কাল কেউ পাথর মারেনি। কাদা ছুড়েছে। পুরোটাই জনরোষ। বিজেপির কেউ ছিল না। চুরি করেছেন বলেই চোর চোর স্লোগান উঠেছে।’
এদিন বিরজুর স্ত্রীর সরকারি চাকরির কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘প্রথমে ১২ মাস মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তারপর তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে স্থায়ী করার ব্যবস্থা করা হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী সেখান থেকে বেরিয়ে বীজপুর থানায় যান। সেখানে হালিশহর থানার আইসি তমাল দত্তের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তকারী অফিসার ফিরোজ মল্লিকেরও খোঁজ করেন। যদিও তিনি তখন উপস্থিত ছিলেন না।