• অন্নপূর্ণা, বার্ধক্য ভাতা নিয়ে ‘হঠকারিতা’! বাড়ছে জনরোষ, ক্ষোভ বিজেপিতে
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: ‘হ্যাঁ গো, এবার দেবে না? তাহলে কি এমাস থেকে টাকা বন্ধ হয়ে গেল?’ অন্নপূর্ণা যোজনা হোক কিংবা বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের অর্থ মাসের নির্দিষ্ট দিনে প্রাপকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলেই অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর সবে তিনমাস অতিক্রান্ত। এত সামান্য সময়ে নবগঠিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণত আঙুল ওঠে না। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের ‘হঠকারিতা’য় সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি আর নেই। বরং বিজেপি নেতৃত্বকেই বাংলাজুড়ে কোটি কোটি মানুষের অপ্রিয় প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। ‘টাকা কবে ঢুকবে?’ সামান্য এই প্রশ্নের কৈফিয়ত দিতে গিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত শাসকদলের নেতা-কর্মীদের। সদুত্তর না মেলায় আম জনতা হাতের সামনে পাওয়া পদ্ম নেতাদেরই টার্গেট করছে। কাকদ্বীপ থেকে কোচবিহার— সর্বত্র স্থানীয় বিজেপি নেতারা জনতার কাছে এখন ‘ভিলেন’। অন্তত তেমনই অভিযোগ জমা পড়েছে পার্টির শীর্ষ স্তরে। বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থক বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন না কিংবা ফোন বন্ধ করে রাখছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা রাজ্যের আর্থিক অনুদানের প্রকল্পগুলি নিয়ে ‘খামখেয়ালিপনা’য় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

    তিনমাসের এই সরকার ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে বলে বাসে-ট্রামে ইতিমধ্যেই চর্চা তুঙ্গে। সাধারণ মানুষ নিজের এলাকার বিজেপি নেতাদের সরাসরি কিংবা ফোনে সরকারি প্রকল্পের টাকা কবে মিলবে, তা নিয়ে কার্যত জেরাও করছেন। বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটির এক সদস্য। তাঁর কথায়, সরকার গঠনের পর ৬ ও ১০ জুন দু’দফায় রাজ্যজুড়ে বিধবা ও বার্ধক্য ভাতার টাকা ঢুকেছিল। পরের মাসে তা মেলে ২৪ জুলাই। আর চলতি আগস্ট মাসে এখনও সেই টাকা প্রাপকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। একই চিত্র অন্নপূর্ণা যোজনায়। সরকারি অনুদানপ্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে থাকেন অসংখ্য মানুষ। এক্ষেত্রে মাসের নির্দিষ্ট দিনে তা না পেলে অসন্তোষ বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। কোর কমিটির ওই সদস্য আরও বলেন, ভোটের আগে বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা এক হাজার থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এক হাজার টাকাই দেওয়া হচ্ছে। বৃদ্ধাদের একটা বড়ো অংশ মাসের শুরু থেকে বারবার ব্যাংকে গিয়ে পাসবই আপডেট করানোর লাইনে দাঁড়াচ্ছেন আর হতাশ হচ্ছেন। আর সেই প্রাপক কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাতের কাছে বিজেপি নেতা-কর্মীদের পেলেই অসন্তোষ উগড়ে দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে দলের রাজ্য কমিটির এক নেতা সাফ জানিয়েছেন, পার্টির সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের অভাব ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। সংগঠনের বক্তব্য সঠিকভাবে সরকারের ‘কানে’ পৌঁছোচ্ছে না, যার খেসারত দিতে হচ্ছে দলের মাঝারি ও নীচুতলার নেতা-কর্মীদের। মূলত যাঁদের কাঁধে ভর করে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছি, তাঁরাই সরকারের হঠকারি সিদ্ধান্তের কুফল ভোগ করছেন।  

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে এই জ্বলন্ত সমস্যা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সবিস্তারে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন সুনীল বনসল। পার্টির তরফে কয়েকজনকে এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। সরকারের অবশ্য এখনও বক্তব্য, অনেক প্রকল্পেই অযোগ্য সুবিধাভোগী রয়েছে। ঝাড়াই-বাছাই করে তাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করতে সময় লাগছে। কিন্তু তা করতে গিয়ে তো দলের বহু নেতা-কর্মী পার্টি ছেড়ে দিতে চাইছে! এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু সরকারকে সতর্কই করছেন বিজেপি নেতারা।
  • Link to this news (বর্তমান)