• এসআইআরে নাম না থাকলে চাকরি নিয়ে প্রশ্ন, নথি জমার নির্দেশ, আতঙ্কে রাজ্যের ৫ লক্ষ অস্থায়ী কর্মী
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের অস্থায়ী কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী? পালাবদলের পর থেকেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন রাজ্যের প্রায় পাঁচ লক্ষ অস্থায়ী কর্মী। বিভিন্ন মহল থেকে দুশ্চিন্তা না করার মৌখিক আশ্বাস মিললেও পূর্তদপ্তরের এস্টাব্লিশমেন্ট ব্রাঞ্চের সাম্প্রতিক একটি চিঠিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাঁদের মধ্যে। কী রয়েছে তাতে? জানা গিয়েছে, পূর্তদপ্তরের চিঠিতে তাদেরই একটি শাখায় নিযুক্ত অস্থায়ী কর্মীদের একাংশের এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীর সংসদীয় নির্বাচন কেন্দ্রের নাম ও নম্বর, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ও নম্বর, পার্ট নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর নির্দিষ্ট ফরম্যাটে জমা দিতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৬-এ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকার যে পাতায় সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী কর্মীর নাম আছে, প্রমাণ স্বরূপ সেই পাতার সেলফ অ্যাটেস্টেড প্রতিলিপি জমা দিতে হবে। এই খবর জানাজানি হতেই অন্যান্য দপ্তরে নিযুক্ত অস্থায়ী কর্মীদের আশঙ্কা, তাহলে কি একইভাবে তাঁদের এসআইআরের যাবতীয় নথিও যাচাই করবে রাজ্য? তালিকায় কোনো কারণে নাম না উঠলে কি বাতিল হবে চাকরি? 

    ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি ছাড়াও সিভিক ভলান্টিয়ার, থার্ড পার্টি কনট্রাকচুয়াল মিলিয়ে বর্তমানে রাজ্যে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষ। কিছুদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে সিভিক ভলান্টিয়ারদের সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছিলেন, তাঁদের অনেকের নিয়োগে ত্রুটি রয়েছে। অনেকের নথিপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা বয়সের প্রমাণপত্র ভুয়ো। একটা অংশ স্রেফ দলীয় ক্যাডার হিসাবে কাজ করতেন বলেও অভিযোগ তাঁর। সেই সূত্রে ‘ঝাড়াই-বাছাইয়ের’ কথাও বলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্য এবং পূর্তদপ্তরের এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য তলব করে দেওয়া চিঠির প্রেক্ষিত ভিন্ন হলেও দুই বয়ানের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন অস্থায়ী কর্মীরা। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এমনই এক অস্থায়ী কর্মীর আশঙ্কা, ‘এবার কি আমাদের সবার এসআইআর নথি চাওয়া হবে একইভাবে? এটা কি প্রথম ধাপ?’ 

    সূত্রের খবর, অস্থায়ী কর্মীদের বিষয়টি নিয়ে অনেক দপ্তর ইতিমধ্যে আলোচনা করেছে। শূন্যপদ সংক্রান্ত তথ্য অর্থদপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছে তারা। এবার কি তাহলে সমস্ত দপ্তরের অস্থায়ী কর্মীর নথিসহ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ আসবে? জোর জল্পনা শুরু হয়েছে নবান্নের পাওয়ার করিডরে। 

    কিন্তু এসআইআর তথ্য চাওয়াতে আতঙ্কের কারণ কী? এক কর্মী জানান, সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারী এবং এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া যাঁরা ট্রাইবুনালে গিয়েছেন, তাঁরা সরকারের সমস্ত সুবিধা পাবেন। অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকরী হলে কারও চাকরি যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু ট্রাইবুনালে কতজন আবেদন জানিয়েছেন, সম্প্রতি তা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই গেরোয় যদি কোনো অস্থায়ী কর্মী পড়ে যান, তাঁর কী হবে? আশঙ্কার এই দোলাচলের মধ্যেও সোমবার নবান্নে যথারীতি কর্মব্যস্ত থাকতে দেখা গেল এই কর্মীদের।
  • Link to this news (বর্তমান)