সাত মাসেই সাপে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা ছাড়াল ৬ হাজার, দক্ষিণ ২৪পরগণায় বাড়ছে আশঙ্কা
বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সাপের উপদ্রব বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। চলতি বছরে সাত মাসেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ছ’হাজারের বেশি মানুষকে সাপে কামড়েছে। তাঁদের মধ্যে সিংহভাগ চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়েছেন। গত বছর যেখানে বারো মাসে সাত হাজারের মতো আক্রান্ত ছিলেন, সেখানে এবার আক্রান্তের হার বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, বছরে শেষে আক্রান্তের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। বিভিন্ন এলাকায় বহুদিন ধরে বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। ফলে সাপের বাসা ডুবে যাওয়ায় কালাচ, কেউটে, চন্দ্রবোড়ারা উঁচু জায়গায় চলে যাচ্ছে। মানুষের বাসস্থানে ঢুকে আশ্রয় নিচ্ছে সরীসৃপরা। সেই কারণে সাপের আক্রমণও বাড়ছে। জানা গিয়েছে, সব থেকে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ক্যানিংয়ে। সেখানকার হাসপাতালে ভরতি হয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন বারোশোর বেশি রোগী। মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাতজনের। এছাড়াও বারুইপুর মহকুমায় সাতশোর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। জয়নগরের পদ্মেরহাট হাসপাতালে ৫০০র মতো রোগী সর্প দংশনের চিকিৎসা করিয়েছেন।
তবে এবারে অনেক আগেই কালাচ সাপের কামড় শুরু হয়েছে বলে জানান সর্প বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত এই সাপের উপদ্রব জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টে শুরু হয়। কিন্তু এবার তার আগে থেকেই মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। একই পরিবারের বাবা, মা ও সন্তানকে কামড়ানোর ঘটনাও এবার একটু বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, রাতে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো প্রয়োজন। কারণ গ্রামেগঞ্জে বিছানায় সাপ উঠে কামড়ে চলে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেটাই তার পরের বছর বেড়ে সাত হাজারে দাঁড়ায়। আর এবারে সেটা কোথায় গিয়ে থামবে সেটা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।