টাকির সিংহভাগ রাস্তার কাজ শেষ না করে বেপাত্তা ঠিকাদাররা, ক্ষোভ
বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, বসিরহাট: নির্বাচনের আগে শুরু হলেও শেষ হয়নি একাধিক সরকারি রাস্তার কাজ। দেখা পাওয়া যাচ্ছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থাগুলিকে। এমনই অভিযোগ এলাকাবাসীদের। টাকি পুরসভা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার এক, দুই, আট, নয়, বারো নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক রাস্তার কাজ শুরু হলেও তা আর শেষ হয়নি। অথচ ঠিকাদার সংস্থার তরফে বোর্ড বসানো রয়েছে। যেখানে বড় বড় করে লেখা কাজ, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ।
বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ টাকিরই প্রবীণ বাসিন্দা নিমাই বিশ্বাস। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পে প্রতি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু দেখছি সেই টাকায় শুধুমাত্র বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থার সাইনবোর্ড বসেছে। যদি প্রকৃত উন্নয়ন হত, তাহলে এই সমস্ত এলাকায় জল জমে থাকত না। রাস্তায় আছাড় খেয়ে পড়তে হতো না আমাদের মতন প্রবীণ নাগরিকদের।
কলকাতার বাঘাযতীনের বাসিন্দা তাপস রায়। টাকিতে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বলেন, টাকির মতো একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের একাধিক রাস্তায় জমে রয়েছে জল। কোথাও রাস্তার গর্ত ভরাট করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে পাথর ও রাবিশ। কিন্তু প্রায় সব রাস্তার কাজই অসমাপ্ত। গাড়ি গেলেই ছিটকে উঠছে কাদামাটি। দ্রুত সংস্কার হওয়া উচিত এই সমস্ত রাস্তাগুলি।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতা হেমন্ত তপন হালদার বলেন, দুর্গাপুজোর সময়ে দুই দেশের মানুষ মিলেমিশে এক হয়ে যায়। এর সাক্ষী থাকতে সারা রাজ্য থেকে পর্যটকরা টাকিতে আসেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, টাকির উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তৃণমূলের নেতারা। তাছাড়া বেআইনি কাজকর্মে এরাই ছিলেন শীর্ষে। বেআইনি নির্মাণ করে ইছামতীর সৌন্দর্য এঁরাই নষ্ট করেছেন। রাজ্য সরকারের তরফে বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে রাস্তা তৈরি না করে তা পকেটস্থ করেছেন।
আমরা বিজেপির তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ঐতিহাসিক শহর টাকির উন্নয়নের দাবি নিয়ে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষের কাছে আমাদের প্রতিনিধিরা যাবেন। আমাদের বিশ্বাস, তিনি আমাদের দাবিতে সাড়া দিয়ে টাকি পর্যটন কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ করবেন। নিজস্ব চিত্র