সেবির কাছে পুনরুজ্জীবনের আবেদনই করেনি ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ, জানাল কেন্দ্র
বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় কাটছে না। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় লিখিতভাবে অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে যে, তাদের এগজিট অ্যাপ্লিকেশন হোল্ডে রাখার জন্য ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ সেবির কাছে আবেদন জানিয়েছে ঠিকই। কিন্তু পুনরুজ্জীবনের (রিভাইভাল) বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ সেবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আবেদন জমাই দেয়নি।
১১৮ বছরের পুরানো সিএসইকে বাঁচাতে উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার। বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেছিলেন, নানা আইনি জটিলতায় এই প্রাচীন শেয়ার বাজার বন্ধ হলেও তা ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, সেই কাজে গতি আনতেই নবান্ন থেকে অর্থমন্ত্রকের চিঠি গিয়েছে গত সপ্তাহে। শেয়ার বাজারটি খুলতে কী কী পদক্ষেপ করা উচিত, সেই বিষয়েই রূপরেখা চেয়েছে রাজ্য। কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে এতে সাহায্য করতে পারবে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এবিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর প্রশ্ন ছিল যে, গত ২২ জুন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর বাজেট ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে সেবির কাছে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ এই মর্মে কোনো আবেদন জমা দিয়েছে কি? একইসঙ্গে এব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানও লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন শমীকবাবু। তারই লিখিত জবাবে এদিন রাজ্যসভায় অর্থমন্ত্রকের কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানিয়েছেন, সেবির কাছে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের এগজিট অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছিল ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই আবেদন হোল্ডে রাখার জন্য সিএসই সরকারিভাবে আর্জি জানিয়েছে গত ১ জুলাই। পাশাপাশি রাজ্যের কোথায় কেমিক্যাল পার্ক গঠন হবে, তা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বাংলায় কেমিক্যাল পার্ক তৈরির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সার ও রাসায়নিক মন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে বিস্তারিত জানতে চান সাংসদ শমীকবাবু। তার লিখিত জবাবে রাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল জানিয়েছেন,কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও কোথায় এই কেমিক্যাল পার্ক গঠন হতে পারে, সেই ব্যাপারে তিনি কোনো উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে, হাসিমারা এবং কলাইকুণ্ডা এয়ারফোর্স স্টেশনে সিভিল এনক্লেভ তৈরির জন্য রাজ্যের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জমি পায়নি কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহার এসংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নের জবাবে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী মুরলীধর মোহল জানিয়েছেন যে, কলাইকুণ্ডার জন্য ৩৮.২৫ একর জমি প্রয়োজন। হাসিমারার জন্য প্রয়োজন ৩৮ একর জমি।