• ইস্টবেঙ্গলকে টাকা দিতে আপত্তি জানিয়ে ফেডারেশনকে চিঠি ইমামির, ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি জমা দেবে কীভাবে
    প্রতিদিন | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • আইএসএলের পার্টিসিপেশন ফি জমা দেওয়া নিয়ে জামশেদপুর এফসি আর ইন্টার কাশীর পিছনে এতদিন ধরে সবাই পড়েছিল। এদিকে ইস্টবেঙ্গল যে আইএসএল খেলার জন্য এখনও পার্টিসিপেশন ফি জমা দিতে পারেনি, সেই দিকটা কারও মাথায় নেই। আর সেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেওয়াকে কেন্দ্র করেই ছোটখাটো একটা নাটকও হয়ে গেল।

    এই মরশুমে আইএসএল খেলার জন্য আগেই জানানো হয়েছিল, প্রতিটি ক্লাবকে দিতে হবে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রথম কিস্তির ৫৫ লক্ষ। তারপর আগস্টে বাকি ৫৫ লক্ষ। জামশেদপুর এফসি কোনও টাকা না দিয়ে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, কোনও অর্থ খরচ না করে, আইএসএল থেকে দল তুলে নেবে। অবশ্য কিছুদিন আগে ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য জামশেদপুর এফসিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হবে। ফলে সেই সিদ্ধান্ত জানার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। কোনও ইনভেস্টর এখনও হাতে না থাকায় অনেক কষ্ট করে ৩০ জুলাই কিস্তির প্রথম ৫৫ লক্ষ টাকা ফেডারেশনকে জমা দিয়েছে ইন্টার কাশী। তবে প্রথম কিস্তির টাকা জমা দিতে যতদিন দেরি হয়েছে, তাতে প্রতিদিন ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার সময়। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল কী করবে? এখনও পর্যন্ত লাল-হলুদের পক্ষ থেকে কোনও পার্টিসিপেশন ফি জমা দেওয়া হয়নি ফেডারেশনে। কিন্তু কেন এই ঢিলেমি? আসলে ইস্টবেঙ্গলের হাতেও এখনও পর্যন্ত কোনও ইনভেস্টর নেই। ফলে আর্থিক সমস্যা রয়েছে লাল-হলুদেও। কিন্তু মজার বিষয় ঘটেছে অন্য জায়গায়।

    গত মরশুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ফেডারেশনের কাছে ইস্টবেঙ্গলের প্রাপ্য ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। সেই টাকা এখনও লাল-হলুদকে দিয়ে উঠতে পারেনি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। যেহেতু ইস্টবেঙ্গল তাদের কাছে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা পায়, ফেডারেশন ঠিক করেছিল, সেখান থেকে আপাতত কিস্তির প্রথম টাকা ৫৫ লক্ষ কেটে নিয়ে বাকি টাকাটা ইস্টবেঙ্গলকে দেবে। আর এই ঘটনার কথা জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গেই ইমামি কর্তৃপক্ষ ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পুরস্কার বাবদ ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা তাদের প্রাপ্য। এই পুরস্কার অর্থ ক্লাবের নয়। তারা এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টরও নয়। স্বাভাবিক কারণেই ইমামির প্রাপ্য টাকা থেকে এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল খেলার জন্য পার্টিসিপেশন ফি কেটে নিতে পারে না। এই টাকাটা সরাসরি ইমামিকেই দিতে হবে।

    ইমামি কর্তৃপক্ষ ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পুরস্কার বাবদ ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা তাদের প্রাপ্য। এই পুরস্কার অর্থ ক্লাবের নয়। তারা এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টরও নয়। স্বাভাবিক কারণেই ইমামির প্রাপ্য টাকা থেকে এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল খেলার জন্য পার্টিসিপেশন ফি কেটে নিতে পারে না।

    ইমামি কর্তৃপক্ষর এই চিঠি পাওয়ার পর স্বাভাবিক কারণেই ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল খেলার ‘পার্টিসিপেশন ফি’ নিতে পারেনি তারা। পরিবর্তে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে চিঠি দিয়ে ফেডারেশন জানিয়েছে, আইএসএল খেলার ‘পার্টিসিপেশন ফি’-র বিষয়টি চূড়ান্ত করুক ক্লাব। ফেডারেশনের তরফে এই চিঠি পাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যায় পড়ে গিয়েছেন লাল-হলুদ কর্তারা। টাইটেল স্পনসরের জন্য ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তা প্রায় নিয়মিত ইমামি কর্তৃপক্ষর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চললেও, ইমামির পক্ষ থেকে ফেডারেশনকে টাকা না কাটার চিঠি বুঝিয়ে দিচ্ছে, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে ইমামি এখনও পর্যন্ত খুব একটা আগ্রহী নয়। যদি ইমামি টাইটেল স্পনসর হিসেবে থাকার জন্য রাজি হয়ে যেত, তাহলে ফেডারেশনের থেকে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রাপ্য টাকা কেটে এই মরশুমের ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলের পার্টিসিপেশন ফি দিয়ে দিত।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইমামি কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানানোর পর ইস্টবেঙ্গল এখন পার্টিসিপেশন ফি দেবে কী করে? এমনিতে ক্লাবের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার তাঁর নানা যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ক্লাবে ইনভেস্টর আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যতক্ষণ না, ইনভেস্টর পাওয়া যায়, ততক্ষণ তো অবশ্যই চিন্তার। কারণ, কোচ-ফুটবলাররা এসে প্র্যাকটিস শুরু করে দিয়েছেন। প্রাথমিক বেতন দেওয়ার ধাক্কাটা সামলে নেওয়া গিয়েছে। পরের ধাপে চালানোর জন্য যে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন দলের সামনে অনেক খরচ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)