• বোমা-গুলির নয়, ক্ষুদিরামের কেশপুর গড়তে হবে: শুভেন্দু
    এই সময় | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • সমীর মণ্ডল, মেদিনীপুর

    বাম আমল থেকে রাজনৈতিক অশান্তির ধারাবাহিক। বার বার শিরোনামে এসেছে কেশপুর। কেশপুর মানেই যে ছবি ভেসে উঠত সাধারণের চোখে, তা হলো বোমা-গুলি- বন্দুকের। বাম শাসনের অবসানে তৃণমূল সরকারের আমলে তার সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছিল বিরোধীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া। যে অভিযোগ বার বার তুলেছে বিজেপি। তবে এ বার সেই ছবি বদলে দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    মঙ্গলবার, ক্ষুদিরাম বসুর ১১৮ তম আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনিতে তাঁর জন্মভিটেতে এসে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, শহিদের স্মৃতিবিজড়িত সমস্ত স্থান সংরক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় স্তরের ঐতিহ্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাঁর কথায়, 'কেশপুর মানে বোমা-বন্দুক, গুলির আওয়াজ, মিথ্যা মামলা, সন্ত্রাস ও একদলীয় ব্যবস্থা। এই পরিচয় বদলে 'ক্ষুদিরামের কেশপুর' গড়ে তুলতে হবে।' প্রতি বাড়িতে শৌচালয়, গরিবদের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস, উন্নত স্কুল-কলেজ, চকচকে রাস্তাঘাট এবং ঘরে ঘরে আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম কিষানের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এ দিন দুপুরে মোহবনিতে পৌঁছে প্রথমে শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। হেলিকপ্টারে আসার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোলাঘাটে জরুরি অবতরণ করতে হয় তাঁকে। পরে সড়কপথে মুখ্যমন্ত্রী মোহবনি পৌঁছন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কয়েক দিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটে নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চেয়েছিলেন এবং স্থানটি সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

    তাঁর কথায়, 'ক্ষুদিরামের জন্মভিটে শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরের নয়, গোটা দেশের গর্ব। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ যাতে এখানে এসে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই মোহবনিকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।' যার মধ্যে রয়েছে, ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটে ও স্মৃতিসৌধের সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন, পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা। ক্ষুদিরামকে নিয়ে গ্যালারি, লেজার শো-সহ সংগ্রহশালাও করা হবে।

    শিক্ষা দপ্তরকে তাঁর নির্দেশ, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে বীর বিপ্লবীর জীবন, সংগ্রাম এবং আত্মবলিদানের ইতিহাস বিস্তারিত ভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে ক্ষুদিরামকে আত্মবলিদান দিতে হয়েছিল, সেই ইতিহাসও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সব শেষে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, 'আগামী বছর এই দিনে এসে যেন সমস্ত কাজ হয়েছে দেখতে পাই।'

    এ দিন অনুষ্ঠান শুরুর আগে মঞ্চে উপস্থিত থাকার জন্য বিভিন্ন বিধায়কের সঙ্গে কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহার নামও ঘোষণা করা হয়। এর পরেই জনতার একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে 'শিউলি সাহা গো ব্যাক' স্লোগান দিতে শুরু করেন। কয়েক জন অভিযোগ করেন, গত দশ বছরে কেশপুরের মানুষ নানা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তাই তাঁরা শিউলি সাহাকে মঞ্চে দেখতে চান না। পরে বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছি বলে বেরিয়ে যান শিউলি।

    এ দিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস ও মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সমিত মণ্ডল। এ ছাড়াও ছিলেন সবংয়ের বিধায়ক অমল পাণ্ডা, দাসপুরের বিধায়ক তপন দত্ত, পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক সেন্টু সেনাপতি এবং চন্দ্রকোণার বিধায়ক সুকান্ত দোলই।

  • Link to this news (এই সময়)