• ‘বিরোধীরাই আলোচনা থেকে পালাচ্ছে...’, সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে জবাবি ভাষণের সময় ঘোষণা শাহের
    এই সময় | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • দিল্লিতে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব চেয়ে সরব বিরোধী দলের সাংসদরা। সেই আবহে বুধবার সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, সরকার সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। বরং, বিরোধীরাই বিতর্ক এড়িয়ে সংসদের কাজ ব্যাহত করছেন।

    আলোচনায় বসলেই সমস্ত প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেবেন বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সংসদের নিয়ম মেনেই সেই আলোচনা হতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। শাহের কথায়, ‘আলোচনার জন্য আমি তৈরি। কিন্তু বিরোধীরাই আলোচনা থেকে পালাচ্ছেন। সংসদই চলছে না তো সংসদে গিয়ে কী করব।’ আলোচনার আহ্বান জানিয়ে পাল্টা জবাব লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। তিনি বলেন, ‘ওঁর কল্পনা সম্পর্কে শুনতে আমরা আগ্রহী নই।’

    বুধবার অমিত শাহ জানান, পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু করার জন্য বিরোধীরা লোকসভার স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় চিঠি জমা দিতে পারেন। তাঁর প্রস্তাব, ‘বিকেল ৩টে থেকেই আলোচনা শুরু করা হোক।’ আলোচনা চলার পরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টেয় তিনি লোকসভায় বিস্তারিত জবাব দেবেন। অর্থাৎ, বিরোধীরা সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি চাইছেন, তার পরিবর্তে সংসদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রথমে আলোচনা, তার পরে তাঁর জবাব—এই পথেই এগোতে চাইছে সরকার।

    অমিত শাহের বক্তব্য, সংসদে গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয়ে আলোচনার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম না মেনে তিনি শুধু উঠে একটি বিবৃতি দিয়ে চলে যেতে পারেন না। তাই বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—বিতর্ক হোক, প্রশ্ন উঠুক, তার পরে তিনি সবকিছুর জবাব দেবেন।

    অমিত শাহ আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বিরোধীদের মধ্যে তা নিয়ে একমত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁরা শুধু অমিত শাহের ‘বক্তৃতা’ শুনতে আগ্রহী নন।

    রাহুল বলেন, ‘বিরোধীরা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, অমিত শাহের বক্তৃতা শোনার কোনও আগ্রহ আমাদেরনেই। যখন আমি ‘আমরা’ বলছি, তার মানে এই দেশের তরুণ প্রজন্মকে বোঝাচ্ছি। ছাত্রদের গুলি করেছিল কে? পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে ছাত্রদের মারার আদেশ কে দিয়েছিল? আমাদের সন্তানদের গুলি করার এই আদেশ কি অমিত শাহ দিয়েছিলেন? যদি তিনি দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। গত ২০ দিন ধরে অমিত শাহ নিখোঁজ। লোকসভায় আসার সাহস নেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।’ সরকারের কাছে রাহুলে স্পষ্ট দাবি—পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের জন্য স্পষ্ট জবাব দিতে হবে এবং দায় নির্ধারণ করতে হবে। পাল্টা শাহের জবাব, ‘বিরোধীরা তো সংসদ চলতেই দিচ্ছেন না। গিয়ে কী করব।’

    ফলে সরকার আলোচনায় রাজি হলেও সেই আলোচনা কোন নিয়মে হবে এবং অমিত শাহের বক্তব্যের আগে বা পরে বিরোধীরা কী দাবি তুলবেন, তা নিয়ে এখনও রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলন এবং পরে পুলিশের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করেই বিরোধীদের ক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ-সহ একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রকে জবাবদিহি করতে হবে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও অমিত শাহের কাছে জবাব চেয়েছেন। এর আগে তিনি পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’-এর অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘এই পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং এর দায় কে নেবে?’

    বিরোধীরা প্রথম থেকেই অমিত শাহের কাছ থেকে সরাসরি বিবৃতি চেয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছিলেন, সরকার পড়ুয়াদের আন্দোলন-সহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং অমিত শাহ জবাবও দেবেন। কিন্তু তাতে রাজি নন বিরোধীরা।

  • Link to this news (এই সময়)