• ISI যোগ সন্দেহে হাবরায় গ্রেপ্তার পাক নাগরিক, পরে কলকাতা থেকেও আর এক জনকে ধরল বেঙ্গল STF
    এই সময় | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • সন্দেহভাজন পাক নাগরিক গ্রেপ্তার রাজ্যে। ধৃতের নাম রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর যোগ রয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে হাবরার এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। সূত্রের খবর, বুধবার ধৃতকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হতে পারে। এই গ্রেপ্তারির সূত্র ধরেই কলকাতার তপসিয়া থেকে আর এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেই খবর মিলেছে তদন্তকারীদের সূত্রে।

    তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, রানা আদতে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। ২০১২ সালে তিনি ভারতে এসেছিলেন। নেপাল হয়ে বেআইনি ভাবে প্রবেশ করেছিলেন এ দেশে। তদন্তকারীদের অনুমান, নেপালে বেশ কিছু দিন ছিল। পরে তিনি ভারতে ঢুকে বাংলায় থাকা শুরু করেন। তাঁর কাছ থেকে ভারতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে।

    ধৃত ভারতীয় রেল ও সেনাবাহিনীর গতিবিধির উপর নজরে রাখছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, রেল এবং নৌসেনার তথ্য পাকিস্তানে পাচার করতেন রানা। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, কলকাতা থেকে বনগাঁ সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়ে হাবরার যশোর রোড এলাকা থেকে তাঁকে ধরা হয়। তাঁর কাছ থেকে যে আধার কার্ড মিলেছে, তাতে তপসিয়ার ঠিকানা ছিল।

    তদন্তকারীদের সূত্রেই জানা গিয়েছে, তপসিয়া থেকে যিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁর সঙ্গে রানার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। রানা কলকাতায় এলে তপসিয়া থাকতেন। সেই সূত্রেই পরিচয়। রানাকে নানা ভাবে সাহায্যও করেছেন তপসিয়ার সেই ব্যক্তি। ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতেও সাহায্য করেছেন। কিন্তু তপসিয়ার সেই ধৃত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, স্বাধীনতা দিবসের আগে ধৃতেরা কোনও নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    গত জুলাই মাসের শেষে জঙ্গিযোগ সন্দেহে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। হামিমের পাশাপাশি তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং নামের এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, আইএসআই এবং পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁদের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের নিশানায় ছিলেন বলেও দাবি করে এসটিএফ। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যের আর এক মন্ত্রী উমেশ রাইকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। পরে তদন্তে উঠে আসে যে, অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে কাজে লাগানো হতো। অর্পিতার দায়িত্ব ছিল নেতা-মন্ত্রী এবং আমলাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা।

    তদন্তকারীদের একটি সূত্রে দাবি, হামিমকে জেরা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই রানার সন্ধান মেলে। হামিম এবং রানার মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। রানার কোনও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ ছিল কি না এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে কী রকম যোগাযোগ ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তপসিয়ায় তাঁর গতিবিধি, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি, ভারতে থাকার কারণ এবং সীমান্ত পারাপারের বিষয়গুলি নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকা দিয়ে রানা পালানোর চেষ্টা করছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা এবং ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির চক্রের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় চলে এসেছে।

    হাবরা হাসপাতালের এক অস্থায়ী কর্মী জানান, রাতের দিকে মুখ ঢাকা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন সাদা পোশাকের বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী। কিন্তু কী কারণে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতালের কর্মীরা তখনও কিছু জানতে পারেননি। তবে পুলিশি তৎপরতা দেখে তাঁদের মনে হয়েছিল, বিষয়টি গুরুতর।

  • Link to this news (এই সময়)