রাজ্যে পালাবদলের পরেই তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দিয়েছিলেন ২০ জন সাংসদ। দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন করেছিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সেই নিয়ে ফের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। পরে সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও পদক্ষেপ না করলে আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাব।’
সংসদে তৃণমূল সাংসদদের আসন পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ অভিষেকের। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূলের আসন বদল করে এমন সাংসদদের পাশে বসতে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা বর্তমানে প্রকাশ্যেই বিজেপিকে সমর্থন করছেন।’ তবে তাঁদের এখনও NCPI সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। খাতায়কলমে তাঁরা তৃণমূলেই আছেন। অথচ তাঁদের বসার জায়গা আলাদা করে দিয়ে, মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদদের বলার জন্য বরাদ্দ সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ অভিষেকের।
গত জুনে প্রথমবার লোকসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টা পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।’ কিন্তু তার পরে প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি জানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে, বিষয়টি পরবর্তী অধিবেশনের আগে খতিয়ে দেখা হবে।’ অভিষেকের কথায়, ‘এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
অভিষেকের দাবি, দলত্যাগী সাংসদরা তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে জিতেছেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে লড়েছেন। কিন্তু এখন তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থক করছেন। অভিষেকের কথায়, ‘এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের দশম তফসিলের বিধানগুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’ এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সরাসরি বলে দেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্পিকার যদি কোনও পদক্ষেপ না করেন, তা হলে আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাব।’
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরেই তৃণমূল ভেঙে খান খান হয়ে যায়। একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদ দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই তৈরি হয় বিদ্রোহী শিবির। বিধায়কদের কেউ অন্য দলে যোগ না দিলেও, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। বিজেপিকে সমর্থন করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও দেখা করেছেন তাঁরা। এখন দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবি তুলছে তৃণমূল। অভিষেকের দাবি, বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
তৃণমূলের কত জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন?
২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি তৃণমূলের।
কেন তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানানো হয়েছে?
তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। তাই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার সঙ্গে দেখা করেছেন?
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি ফের জানিয়েছেন অভিষেক।
স্পিকার কি কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
অভিষেকের দাবি, এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরবর্তী অধিবেশনের আগে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।
এর পর কী করবেন অভিষেক?
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্পিকার কোনও পদক্ষেপ না করলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।