মাঝ আকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া বিমান। তীব্র ঝাঁকুনিতে আহত হয়েছিলেন ১৭ যাত্রী ও কেবিন ক্রু। সেই ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিমানের মুখ্য পাইলট (Pilot-in-Command)-এর প্রথম ড্রাগ রিপোর্টে অস্বাভাবিক রেজ়াল্ট আসার পরে তাঁর নমুনা ল্যাব টেস্টে পাঠানো হয়। সেই টেস্টেও রিপোর্ট আসে পজ়িটিভ। সূত্রের দাবি, ডিউটিতে থাকাকালীন গাঁজা সেবন করেছিলেন দু'বার ডোপ টেস্টে ফেল করা পাইলট। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার দিন সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারছিলেন ওই পাইলট। এই দাবিও খতিয়ে দেখছে AAIB।
বিমানে থাকা ব্যক্তিদের বয়ানের ভিত্তিতে ওই পাইলটের আচরণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমান দিল্লিতে পৌঁছনোর পরে তিনি ঠিকমতো সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছিলেন না এবং নমুনা দেওয়ার সময়ে তাঁকে সাহায্য করতে হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে এই আচরণ বা ড্রাগ টেস্টের ফল থেকে তিনি বিমান চালানোর সময়ে নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না— তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনও সম্ভব নয়।
গত ৪ অগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 উড়ান। বিমানটিতে ছিলেন ১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্য। আচমকাই মাঝআকাশে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। সেই ঘটনার আকস্মিকতায় এবং পড়ে যাওয়ার সময়ে বিমান বেশ কয়েক বার ডিগবাজি খাওয়ায় ক্রু ও যাত্রী মিলিয়ে ১৭ জন আহত হয়েছিলেন। পরে বিমানটি নিরাপদেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরেই তদন্তে নামে DGCA। বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) এবং ককপিক ভয়েস রেকর্ডার (CVR)-সহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে বিমানটি সফলভাবে অবতরণের পরে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট পাইলট সোজা হয়ে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছিলেন না। তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত অসংযত। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটি দিল্লিতে পৌঁছনোর পরে পাইলটের শারীরিক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সূত্রের দাবি, তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না এবং হাঁটতেও সমস্যা হচ্ছিল। এমনকী ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা (Urine Sample) সংগ্রহের সময়েও তাঁকে সাহায্য করতে হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
আরও কিছু সূত্রের দাবি, উড়ানের সময়েও তাঁর আচরণ ছিল সন্দেহজনক। মাঝআকাশে আচমকা মারাত্মক ঝাঁকুনি শুরু হলে ‘স্টল ওয়ার্নিং’ (Stall Warning) বাজতে শুরু করে, তখন পাইলট-ইন-কমান্ডকে ককপিটের মেঝেতে বসে থাকতে দেখা যায়। তার পায়ে কোনও মোজা বা জুতো ছিল না বলে দাবি সূত্রের। আচমকা ৩০০ ফুট নীচে নেমে যাওয়ার তীব্র ধাক্কায় এমনটা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হলেও, পরবর্তীতে পাইলটের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আরও গুরুতর তথ্য সামনে আসে। তবে এই সম্পর্কে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সূত্রের খবর, ডোপ টেস্টের রিপোর্টে গাঁজার নমুন মিলেছে। পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন বলে সন্দেহ। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং ডিজিসিএ (DGCA)-র নির্দেশে ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে AAIB। টার্বুলেন্সের সঙ্গে সরাসরি পাইলটের নেশাগ্রস্ত হওয়ার কোনও যোগ আছে কি না তাও স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি। বর্তমানে অভিযুক্ত পাইলটসহ ককপিট ক্রু-কে সমস্ত রকম বিমান চালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
১. AI2379 বিমানে কী ঘটেছিল?
৪ অগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী Air India AI2379 উড়ানটি মাঝ আকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। তীব্র ঝাঁকুনিতে ১৭ জন যাত্রী ও কেবিন ক্রু আহত হন।
২. AI2379 বিমানে কত জন যাত্রী ছিলেন?
বিমানটিতে ১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
৩. পাইলটের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট কী এসেছে?
প্রথম ড্রাগ স্ক্রিনিংয়ে অস্বাভাবিক ফল আসার পরে নমুনা ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পাঠানো হয়। সূত্রের দাবি, সেই পরীক্ষাতেও রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এবং গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।
৪. পাইলটের আচরণ নিয়ে কী অভিযোগ উঠেছে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরে পাইলট ঠিকমতো সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারছিলেন না। ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা দেওয়ার সময়ও তাঁকে সাহায্য করতে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
৫. পাইলট কি উড়ানের সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন?
এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। ডোপ টেস্টের ফল বা অবতরণের পর তাঁর আচরণ থেকেই উড়ানের সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে করা যায় না। বিষয়টি তদন্তাধীন।
৬. AI2379 বিমানের ঘটনার তদন্ত কে করছে?
অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক ও DGCA-এর নির্দেশে Aircraft Accident Investigation Bureau (AAIB) ঘটনাটির তদন্ত করছে। FDR ও CVR-সহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৭. সংশ্লিষ্ট পাইলটের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে?
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত পাইলট-সহ ককপিট ক্রু-কে সমস্ত ধরনের বিমান চালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
৮. বিমানের ৩০০ ফুট নীচে নেমে যাওয়ার সঙ্গে পাইলটের ডোপ টেস্টের কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি?
এখনও এমন কোনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। বিমানের প্রযুক্তিগত তথ্য, ককপিট রেকর্ডিং এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।