‘আসন পুনর্বিন্যাস হতে দেব না’, তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ বিজয় সরকারের
প্রতিদিন | ১২ আগস্ট ২০২৬
লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বিলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল তামিলনাড়ু সরকার। নিট এবং এফসিআরএ বিলের বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব পেশের পর বুধবার বিধানসভায় এই সংক্রান্ত এক প্রস্তাব পেশ করল টিভিকে সরকার। প্রস্তাব পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় (CM Vijay) স্পষ্ট বলেন, দক্ষিণ ভারতের অধিকার খর্ব করে মোদি সরকারকে লোকসভার আসন বাড়াতে দেওয়া হবে না।
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তামিলনাড়ু সরকার নিজেদের দাবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লোকসভার আসন সংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ রাখা হোক। বিধাসভায় পেশ হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ু ও দক্ষিণের বাকি রাজ্যগুলি কেন্দ্রের নীতি মেনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর প্রতিদানে পুরস্কৃত করার বদলে দক্ষিণকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বৃদ্ধি করলে সংসদে তামিলনাড়ু ও দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধি কমে যাবে। আসন পুনর্বিন্যাসের কারণে দক্ষিণের রাজ্যগুলি যাতে কোনও অসুবিধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তব্য।
পাশাপাশি প্রস্তাব পেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়েও মন্তব্য করেন। বলেন, ”২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩টি লোকসভা আসনের ভিত্তিতেই মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া উচিত। মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হওয়ার পর তা কার্যকরে সরকারের আর দেরি করা উচিত নয়। তামিলনাড়ুতে পুরুষদের চেয়ে বেশি ভোট দিয়েছেন মহিলারা। ফলে মহিলা সংরক্ষণ কোনও ছাড় নয়, এটি সামাজিক ন্যায় বিচার।”
তামিলনাড়ু বিধানসভায় পেশ হওয়া প্রস্তাবে কেন্দ্রের কাছে মোট ৪টি দাবি পেশ করেছে বিজয় সরকার। প্রথমত, লোকসভার মোট আসনসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান প্রতিনিধিত্ব অনুপাতের ভিত্তিতে রাজ্যগুলির মধ্যে লোকসভা আসন বণ্টন স্থগিত করতে হবে। এছাড়াও, জনসংখ্যা ও রাজ্যগুলির মধ্যে বর্তমান ২.২:১ অনুপাত বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এবং বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ সংরক্ষণ করতে হবে।