এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে ওঠা তিনটি গুরুতর অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংসদের তদন্ত কমিটি। কমিটির রিপোর্টে জানানো হয়েছে— সরকারি আবাসে বিপুল নগদ টাকার উপস্থিতি, তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে গুরুতর গাফিলতি এবং তদন্ত চলাকালীন সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ার কারণে বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে ওঠা তিনটি অভিযোগই সত্য। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে বিচারপতি ভার্মা ইস্তফা দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির ৩০, তুঘলক ক্রেসেন্টে (30, Tughlak Crescent) বিচারপতির সরকারি বাসভবনের একটি স্টোররুম থেকে ৫০০ টাকার নোটের বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছিল। বিচারপতির কাছে এই অর্থের উৎস, মালিকানা ও উপস্থিতির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তবে তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। ফলে প্রথম অভিযোগটি তিন বিচারপতির প্যানেলের তদন্তে প্রমাণিত হয়।
বিচারপতির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণ বা হ্যান্ডলিং সংরক্ষণে মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে। আইনি ভাবে স্টোর রুমটি সিল করা এবং পরিদর্শনের আগেই স্টোর রুমটির স্বাভাবিক অবস্থার পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে কিছু নোট পাওয়া যায়নি। যদিও রিপোর্টে এ কথা বলা হয়নি যে, বিচারপতি নিজে ওই নোট সরিয়েছেন। তবে প্রমাণ সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগ ছিল, তদন্তের সময় বিচারপতির দেওয়া উত্তর অত্যন্ত অসন্তোষজনক ছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ২২ মার্চ তাঁর দেওয়া লিখিত প্রতিক্রিয়াকে অভিযোগ ‘এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা’ (evasive) বলে অভিহিত করেছে কমিটি। নিরপেক্ষ সরকারি সাক্ষী এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট, কার্যবিবরণীর রেকর্ড এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত নথি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের (Competent Authority) কাছে জমা দিয়েছে। রিপোর্ট প্রাপ্তির পর এখন আইনানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
২০২৫ সালের অগস্ট মাসে বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের সংসদীয় প্যানেল গড়ে দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেই প্যানেলের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন বিচারপতি ভার্মা। কিন্তু পরে তাঁর আবদেন খারিজ হয়ে যায়। সংসদীয় প্যানেলের সেই তদন্তের মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছিলেন বিচারপতি ভার্মা।