• ১০ হাজারের বেশি আয়ে মিলবে না অন্নপূর্ণা, নবান্ন থেকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • যাঁদের মাসিক উপার্জন ১০ হাজার টাকার বেশি। পারিবারিক বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এমনকী যাঁরা কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। বুধবার নবান্ন থেকে ঠিক এমনটাই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে যাঁরা দিবাঙ্গ ভাতা, পিএম কিষাণ যোজনার অধীনে রয়েছেন, তাঁরা এই যোজনার টাকা পাবেন। ১৭ আগস্ট থেকে রাজ্যের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকতে শুরু করবে বলেও এদিন শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন।

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা রাজ্যের মহিলাদের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারের মোট খরচ হবে ৪৮-৫০ কোটি টাকা। সরকারি অর্থের অপচয় নয়, প্রকৃত প্রাপকের হাতে সামাজিক সুরক্ষার টাকা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা সামনে রেখে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকবে। অর্থ দপ্তরের তরফে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

    সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২৫-৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলাদের জন্যই এই প্রকল্প। তবে একই পরিবারের মা, বউ এবং মেয়ে সকলে এই যোজনার সুবিধা পাবেন। গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩টির বেশি ঘর থাকলেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। জমির পরিমাণ ৫০ ডেসিমেলের বেশি হলেও মিলবে যোজনার টাকা। সরকারি কর্মী, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত-পুরসভা কর্মী-সহ নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণি এই সুবিধার বাইরে থাকবেন। মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি নিজস্ব আয় করেন এমন মহিলারাও প্রাথমিকভাবে যোগ্য নন। বার্ষিক পারিবারিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে এই প্রকল্পের আওতায় আসার সুযোগ নেই।

    তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে নিয়মে ছাড় রাখা হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী মহিলারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকাও পাবেন। একই ভাবে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শিথিলতার কথা জানানো হয়েছে। গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। বাড়ির ধরন কিংবা জমির পরিমাণের মতো কারণে আগে যাঁরা বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাঁদের একটি বড় অংশ এবার সুযোগ পাবেন বলে সরকারের দাবি।

    এর পাশাপাশি রাখা হবে অভিযোগ জানানোর পোর্টাল। যোগ্য হয়েও কেউ বাদ পড়লে সেখানে আবেদন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও-র নেতৃত্বে সেই অভিযোগের নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকবে। অতীতে তড়িঘড়ি করে উপভোক্তা তালিকা তৈরি হওয়ায় মৃত ব্যক্তি, অযোগ্য ব্যক্তি কিংবা প্রকৃত ভারতীয় নন, এমন নামও তালিকায় থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই এবার আবেদন ও তথ্য যাচাইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    জেলা শাসকদের নেতৃত্বে ব্লকস্তরে চলছে যাচাই। আধার-লিঙ্ক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বয়স, পরিবারের আয়-সহ একাধিক তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের দাবি, ‘যোগ্য প্রাপকদের বঞ্চিত করা হবে না। আবার সরকারি টাকার অপচয়ও হতে দেওয়া হবে না।’ সরকারের স্পষ্ট বার্তা, অন্নপূর্ণা কোনও এককালীন রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং প্রকৃত প্রাপকের হাতে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে অন্নপূর্ণার অর্থ। এই লক্ষ্যেই ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে নতুন পর্ব।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)