• ট্রাইবুনাল নিয়ে সুপ্রিম তোপে কমিশন, ‘এসআইআর আবেদনের নিষ্পত্তি হতে তো পরের ভোট চলে আসবে’
    বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: এসআইআর। ভোটের মুখে বাদ যাওয়া প্রায় এক কোটি নাম। এবং ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হওয়া লক্ষ লক্ষ ‘বৈধ ভোটার’। গোটা দেশে তোলপাড় পড়ে যাওয়ার পরও এই ‘হতভাগ্য’দের ভোটভাগ্য ঝুলেই রয়েছে। কারণ, ট্রাইবুনালের শ্লথ গতি। তারই জেরে এবার সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়তে হল নির্বাচন কমিশনকে। কারণ, তাদের কাছেও নেই ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের তথ্য! কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর দায়ের করা মামলার শুনানির পর্যবেক্ষণে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শ্লেষের সুরে বলেই ফেললেন, ‘এ তো নিষ্পত্তি হতে পরের ভোট চলে আসবে!’

    মঙ্গলবার ছিল মামলাটির প্রথম দিনের শুনানি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের সামনে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু। তাঁর কাছেই সর্বোচ্চ আদালত চাইল জবাব। যদিও নাইডু বললেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট নেই। জেনে বলব। ট্রাইবুনালের পরিকাঠামোগত কোনো সমস্যা হলে দেখব।’ সে কথা শুনেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, ‘অনেক সময় চলে গিয়েছে। তাই আমরা জানতে চাই, কত সংখ্যক আবেদনের নিষ্পত্তি হল। কাদের ফের ভোটার তালিকায় নাম উঠল, বা কারা বাদ থেকেই গেলেন... এসব জানতে চাই না। কিন্তু নিষ্পত্তি কত হল, সেটা বলুন। কারণ, আর যাই হোক আমরা সুপ্রিম কোর্টই তো ট্রাইবুনাল গঠন করে নাম বাদ পড়াদের নিষ্পত্তির কথা বলেছি।’ আগামী ২৫ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি। তার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে ট্রাইবুনালের এই হিসাব শীর্ষ আদালতে জমা দিতে হবে। 

    পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের আপিলের নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গড়েছেন ২০টি ট্রাইবুনাল। বিচারের দায়িত্ব অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের। যদিও এর মধ্যে দু’জন বিচারপতি সরে দাঁড়ান। একজন আবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন নিরাপত্তা চেয়ে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের তিন মাস পার হয়ে গিয়েছে। তাই দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আরও বেশি সংখ্যক ট্রাইবুনালের দাবির পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদনকারীদের হাজিরার প্রসঙ্গ ওঠে। 

    মামলার আবেদনকারী অধীরবাবুর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার জেরেই ৩৪ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। যদিও কমিশনের মতে সেটি ২৭ লক্ষ। তাই নাম বাদ পড়াদের সুরাহার সন্ধানে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অধীরবাবু। তাঁর আইনজীবী রউফ রহিম সওয়াল করতে গিয়ে এদিন এও বলেন, ‘ট্রাইবুনালে বিচারাধীন থাকার অজুহাতে নাম বাদ পড়া পরিবারগুলি রেশনের চাল-গম পর্যন্ত পাচ্ছে না। সরকারি প্রকল্প থেকেও বঞ্চিত।’ যদিও প্রকল্পের প্রাপ্তি ইস্যুতে এখনই কোনো মন্তব্য করতে নারাজ শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় রাজ্য সরকার কারও সামাজিক সুবিধা বন্ধ করেছে কি না, সেটা ভিন্ন বিষয়। এ ব্যাপারে হাইকোর্ট বিচার করবে। আমাদের দেখার বিষয় ট্রাইবুনাল। সেখানে দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে কি? সেটাই জানতে চাই। কমিশনকে এ ব্যাপারে পরবর্তী শুনানিতে জবাব দিতে হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)