টয় ট্রেনের স্টিম ইঞ্জিনের হারানো কারিগরি জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে ভারত-ইংল্যান্ডের আলোচনা শুরু
বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) ঐতিহাসিক স্টিম ইঞ্জিন সচল রাখার পুরনো কারিগরি জ্ঞান ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে টয় ট্রেনের হেরিটেজ স্টিম ইঞ্জিনগুলি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই পুরনো কারিগরি জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে ভারত ও ইংল্যান্ড যৌথভাবে ‘নলেজ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ শুরু করতে চলেছে।
ডিএইচআর-র ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, স্টিম ইঞ্জিনের পুরনো কারিগরি জ্ঞান হাতে কলমে শেখার জন্য ‘নলেজ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য দু’দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। কার্শিয়াংয়ে এই পরিকাঠামো গড়ে উঠবে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে সোসাইটির উদ্যোগে ব্রিটেনের অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত স্টিম ইঞ্জিন বিশেষজ্ঞরা কার্শিয়াংয়ের তিনধারিয়া ওয়ার্কশপে এসে ভারতীয় রেলকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। পুরনো স্টিম ইঞ্জিনের মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণের হাতেকলমে জ্ঞানই হবে এই কর্মসূচির মূল বিষয়।
গত এক দশকে ডিএইচআরের বহু অভিজ্ঞ কর্মী অবসর নিয়েছেন। ফলে টয় ট্রেনের স্টিম ইঞ্জিনের পুরনো প্রযুক্তি জানেন এমন দক্ষ কর্মীর সংখ্যা কমেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই জ্ঞান নতুন প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন অচল হয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্টিম ইঞ্জিন ‘৭৯৯’-কে ফের সচল করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি কার্শিয়াংয়ে একটি ‘কমন হেরিটেজ রেলওয়ে ইনস্টিটিউট’ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেশের বিভিন্ন পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী রেলপথের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রেল ও পর্যটন মহলের মতে, স্টিম ইঞ্জিন বাঁচানোর পাশাপাশি ডিএইচআর-এর নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবাও নিশ্চিত করা জরুরি। ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথকে পাহাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পর্যটনের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।