সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: গঙ্গারামপুরের অশোকগ্রাম এলাকায় তৃণমূলের এক জেলা পরিষদ সদস্যের স্বামীর বাড়িতে চলা জুয়ার আসরে হানা দিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করল গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা, ১৯টি মোবাইল ফোন ও নয়টি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে অশোকগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি মোক্তারুল সরকারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, ওই বাড়িতে বহিরাগতদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসত। অভিযানের সময় পুলিশ হাতেনাতে ১৯ জনকে আটক করে ও তাদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা রুজু করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে বোর্ড মানি হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মোক্তারুল সরকারের স্ত্রী রেজিনা পারভীন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ। জন প্রতিনিধির পরিবারের নাম এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই বাড়িতে প্রায়শই এমন জুয়ার আসর বসত।
মঙ্গলবার ধৃত ১৯ জনকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় বেআইনি জুয়ার আসর বন্ধ করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতা মৃণাল সরকার বলেন, পুরো ঘটনাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। মোক্তারুল ইসলাম মাছের ব্যবসা করেন। সেখানে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন ছিল। মিথ্যা মামলায় তৃণমূল কর্মীকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে সকলকে জামিন দিয়েছে।
বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া। বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশ যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা অব্যাহত রাখা উচিত। ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা সামনে এলে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।