সাইবার সহায়তা কেন্দ্রের তৎপরতা, অনলাইন প্রতারণার টাকা উদ্ধার
বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: বিশ্বযুড়ে আজকের দিনে সবথেকে বড়ো আতঙ্ক অনলাইনে আর্থিক প্রতারণা। মাসখানেক আগে যার শিকার হন ময়নাগুড়ির দুই মহিলা হিমানী রায় এবং সোমা দে। এইবার সেই টাকা উদ্ধার করে বড়ো সাফল্য পেল ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। খোঁয়া যাওয়া টাকা ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে প্রতারিতদের। এই সাইবার প্রতারণার চক্রের সঙ্গে বাইরের রাজ্যের যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
ময়নাগুড়ির বাগজান এলাকার বাসিন্দা অঙ্গনওয়ারি কর্মী হিমানী রায় আর্থিক প্রতারণার শিকার হন মাসখানেক আগে। জয়েন্ট বিডিওর নাম করে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে। এরপর ব্লক অফিস থেকে লোন করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ময়নাগুড়ি থানার সাইবার সহায়তা কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করেন ওই অঙ্গনওয়ারি কর্মি। অপরদিকে ময়নাগুড়ির আরেক বাসিন্দা গৃহশিক্ষিকা সোমা দে-ও অনলাইন প্রতারণার শিকার হন। অভিযোগ, একটি কোম্পানির নাম করে ফোন করা হয় তাঁকে। এরপর বিভিন্ন ছবিতে লাইক করার কাজ দেওয়া হয়। লাইক করলেই নাকি টাকা পাওয়া যাবে এমনাটাই তাঁকে জানানো হয়। প্রথমে কয়েকটি ছবিতে লাইক করার পর তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা আসতে শুরু করলেও পরে তাঁকে একটি অনলাইন খেলায় অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়। সেই খেলায় টাকা বিনিয়োগ করার পর তাঁর টাকা আটকে যাওয়ার কথা জানিয়ে আরও টাকা পাঠাতে বলা হয়। এইভাবেই প্রতারণার ফাঁদে পড়েন তিনি। প্রতারকরা তার কাছ মোট ৪৫ হাজার টাকা আদায় করে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে সাইবার সহায়তা কেন্দ্রে অভিযোগ জানান তিনি। এই দুই সাইবার প্রতারণার খবর পেয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর দুই প্রতারিতর টাকা উদ্ধার করে তদন্তকারী দল। তবে টাকা উদ্ধার হলেও এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সাইবার সহায়তা কেন্দ্রের এক আধিকারিক জানান, বাইরের রাজ্য থেকে এই অনলাইন প্রতারণার চক্র চলছে বলে তদন্তে উঠে আসছে। লোকাল জায়গার কোনো ইনফর্মার থাকতে পারে বলে আশঙ্কা।