সাড়ে ৫ লক্ষ কাটমানি চেয়ে বিডিওকে হুমকি, অভিযুক্ত ডোমকলের গড়াইমারি পঞ্চায়েত প্রধান
বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
অভিষেক পাল, বহরমপুর: সাড়ে পাঁচলক্ষ টাকা কাটমানি না দেওয়ায় আটকে রাখা হয়েছিল সরকারি কাজের পেমেন্ট। সেই কাটমানি দিতে রাজি না হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় খোদ বিডিওকে। ডোমকলের গড়াইমারি পঞ্চায়েতের প্রধান হাসানুরজ্জামান মণ্ডলের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগে থানায় এফআইআর করলেন খোদ বিডিও শঙ্খদীপ দাস। এঘটনায় ওই ব্লকে শোরগোল পড়েছে। বিডিওর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ডোমকল থানায় মামলা রুজু হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই পঞ্চায়েত প্রধানের সদস্যপদ খারিজের জন্যও প্রশাসনের কাছে চিঠি জমা পড়েছে।
বিডিও অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, গড়াইমারি পঞ্চায়েতের প্রধান হাসানুরজ্জামান মণ্ডল নিজের পদের অপব্যবহার করে বেশকিছু বৈধ সরকারি কন্ট্রাক্টের পেমেন্ট আটকে রেখেছিলেন। ওই সমস্ত চুক্তির আটকে রাখা টাকা পাইয়ে দেওয়ার বদলে তিনি ৫লক্ষ ৫৯হাজার টাকা কাটমানি চেয়েছিলেন। আরও অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকার করলে এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হলে তিনি বিডিওকে ‘গুরুতর পরিণতি’র হুমকি দেন। এরপরই বিডিও পুলিশের দ্বারস্থ হন। তিনি সোমবার ডোমকল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ তার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৮(২) ও ৩৫১(৩) ধারায় অভিযুক্ত প্রধান হাসানুরজ্জামান মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার এক আধিকারিক জানান, বিডিওর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
যদিও অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, আমি এখনও অভিযোগের বিষয় বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি। তাই এবিষয়ে আমি এখনই কোনো মন্তব্য করতে পারব না। অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে তবেই এবিষয়ে মন্তব্য করব। ডোমকলের বিডিও শঙ্খদীপ দাস এফআইআরের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রশাসন সূত্রে দাবি, ওই বিডিওর বিরুদ্ধে ঠিকাদাররা লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্লক প্রশাসনের তরফে এফআইআর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ওই প্রধানের সদস্যপদ খারিজের জন্য প্রশাসনের কাছে চিঠি জমা পড়েছে। এ ঘটনায় ডোমকলের রাজনৈতিক মহলেও তরজা শুরু হয়েছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জামাল হোসেন বলেন, শুধু ওই পঞ্চায়েতই নয়, ডোমকল মহকুমায় তৃণমূল পরিচালিত সমস্ত পঞ্চায়েতে নজর রাখলেই বুঝতে পারবে, এতদিন কী পরিমাণে দুর্নীতি চলেছে। প্রশাসনের এসমস্ত পঞ্চায়েতে তদন্ত করে কোথাও দুর্নীতি প্রমাণিত হলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা উচিত।
জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ওই প্রধান তৃণমূল আমল থেকেই দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। পালাবদলের পরেও দুর্নীতি বন্ধ করেনি। এর আগে ওর বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের কথা শুনেছি। তার নামে পঞ্চায়েতের নানা কাজে স্বজনপোষণের অভিযোগ রয়েছে। এধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।