• টুলুর তিন ঘনিষ্ঠ গ্রেপ্তার শান্তিনিকেতনে উদ্ধার বেশকিছু নথি
    বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেটের শিকড়ের খোঁজে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে তার ঘনিষ্ঠদের নাম। রবিবার রাত থেকে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির কাছে সরকারডাঙার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আটক করা তিনজনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করল পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন ধৃত তিনজনকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন।

    ধৃতরা হলেন টুলুর মামাশ্বশুরের ছেলে মুর্শিদ কামাল ওরফে রিপন মণ্ডল, রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রাজ এবং শেখ নুর আলম। তদন্তকারীদের দাবি, তিনজনই টুলুর অবৈধ পাথরের কারবারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, রিপন জাল ডিসিআরের চালানের নগদ টাকার হিসাব সামলাত। ইলামবাজারের ঘুড়িষা এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল টুলুর শ্যালক সামসুল আলম ওরফে মিন্টুর পাথরের ব্যবসার ম্যানেজার ছিল। নুর টুলুর গাড়ির চালক ছিল। প্রায় ১২বছর ধরে তার সঙ্গে টুলুর যোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে তিনজনই শান্তিনিকেতনের সরকারডাঙার ওই বাড়িতে থাকছিল। বাড়িটির মালিক মাধব দেবাংশী বহু বছর ধরে পাথরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। টুলুর শ্যালক সামসুলের সঙ্গেও তার ব্যবসায়িক যোগাযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। মাধবকে খুঁজছে পুলিশ। 

    পুলিশের দাবি, ওই বাড়ি থেকে লেনদেন সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। মাধবও বাড়িতে ছিল না। বাড়িটির দিকে নজর রাখছে পুলিশ। এদিকে টুলুর শ্বশুরবাড়ি পাড়ুইয়ে তল্লাশির পর থেকেই টুলুর শ্যালক সামসুলের কোনও খোঁজ মিলছে না। পুলিশের অনুমান, সোনাঝুরি লাগোয়া সরকারডাঙার ওই বাড়িতে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। একটি দামি গাড়িতে করে সেখানে এসেছিলেন সামসুল। পাড়ুইয়ে সামসুলের বড় পাথরের দোকান রয়েছে। বালি ও ডাম্পারের কারবারও রয়েছে। টুলুর দাক্ষিণ্যে ব্যবসায় তার প্রভাব বাড়ে বলে অভিযোগ। তাকে জালে তোলার চেষ্টা করছে পুলিশ।

    সোনাঝুরির সরকারডাঙার ওই বাড়ির কাছেই একটি বিশাল পাঁচিল দিয়ে ঘেরা পার্কিংয়ে আর একটি দামি গাড়ি রাখা ছিল। এই গাড়িটি যে টুলু মণ্ডলের শ্যালকের তা নথি দেখে জানা যায়। মঙ্গলবার সেই গাড়িতে হুইল লক লাগিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এর ফলে ওই গাড়িটি কেউ নিয়ে যেতে পারবে না। 

    পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ভেদিয়া এলাকায় রিপনের বাড়ি থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। টুলুর সঙ্গে কার কার আর্থিক লেনদেন ছিল, সেই তথ্য খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, কিছু অপরাধমূলক নথিও উদ্ধার হয়েছে। সেই নথিতে টুলুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও কারও নাম বা তথ্য রয়েছে কি না তা দেখা হচ্ছে। এখন টুলুর পুরো নেটওয়ার্কের খোঁজ করছে পুলিশ। ধৃতদের সঙ্গে টুলুর যোগাযোগ কতদিনের, টাকা কীভাবে লেনদেন হত, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)