• তৃণমূলের কোন নেতা কত কামিয়েছেন স্পাই লাগিয়ে তোলাবাজি বিজেপির
    বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: তৃণমূল জমানায় কে কত টাকার মালিক হয়েছে? সেই টাকার সূত্র কি? এইসব তথ্য জানতে ব্যক্তিগত ‘স্পাই’ নিয়োগ করেছে বিজেপি নেতাদের একাংশ। কারণ একটাই—প্রাপ্ত তথ্যকে কাজে লাগিয়ে তোলাবাজির পরিমাণ নির্ধারণ করা। অর্থাৎ, তোলাবাজ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তুল্যমূল্য বিচারে ঠিক হবে তোলা আদায়ের ঊর্ধ্বসীমা। ‘স্পাই’রা তথ্য দেওয়ার পরই ওই বিজেপি নেতারা ‘ধনপতি’দের ফোন করে ঠাণ্ডায় মাথায় হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর কোথায় কি বিষয় আশয় রয়েছে, তা জানিয়ে দিচ্ছেন। এরপরই চলছে টাকা চাওয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, পালাবদল হলেও তোলাবাজির সংস্কৃতি একই রকম রয়ে গিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের তুলনায় রেট বেড়ে গিয়েছে। শহরের এক সমাজসেবী বলেন, তৃণমূলের জমানাতে ভুরি ভুরি তোলাবাজির অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু, কাউকে ফোন করে কোটির অঙ্কে টাকা চাওয়ার নমুনা খুব বেশি নেই। কিছুদিন আগেই এক ব্যবসায়ী দাবি করেন, এক বিজেপি নেতা তাঁর কাছে এক কোটি টাকা তোলা চেয়েছিলেন। তিনি গোটা বিষয়টি পুলিশ জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি রেখেছিলেন। 

    তোলাবাজি, জরিমানা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপির অন্দরেও তোলাপাড় শুরু হয়েছে। জেলাজুড়েই নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে দেদার। তাতে অস্বস্তি বাড়ছে। সরব হয়েছেন আদি নেতাদের একটা বড় অংশ। তোলাবাজির কৌশলও সেই একই। তৃণমূল নেতা বা ধনবানদের সম্পত্তির পরিমাণ জেনেই টাকা চাওয়া হচ্ছে। এলাকা দখলে রাখতে সংঘর্ষও বেঁধে যাচ্ছে। তিনদিন আগে মন্তেশ্বরের বিধায়ক সৈকত পাঁজাকে ঘিরে দলের কর্মীরাই বিক্ষোভ দেখান। তাঁর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। বর্ধমানের শ্যামলালে দু’পক্ষর মধ্যে সংঘর্ষে এক মহিলা নেত্রী সহ কয়েকজন জখম হয়েছেন। জামালপুর, কালনাতেও বারবার দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। নেতৃত্ব কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও কাজ হয়নি। দলেরই কর্মীদের অভিযোগ, মধুভাণ্ড দখল ঩নিয়েই লড়াই চলছে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পর সেই লড়াই শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিজেপিতে তিন মাসের মধ্যেই সেই লড়াই আরও তীব্র হয়ে দেখা দিচ্ছে। 

    তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘আমাদের বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন। তাঁদের চাষ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেককেই জরিমানা করা হচ্ছে। তা দিতে না পারলেই চাষ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অসহায় মানুষ কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না।’ বিজেপি নেতা তথা গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, ‘দলের স্পর্ষ্ট নির্দেশ রয়েছে কেউ অন্যায় কাজে যুক্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখনও যারা তোলাবাজি বা জরিমানা করছেন তাঁরা শুধরে না গেলে আগামী দিনে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হবে। শীর্ষ নেতৃত্ব তোলাবাজি নিয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়েছে। না শুনলে দল কাউকেই রেয়াত করবে না। 

    বিজেপি সূত্রে খবর, তোলাবাজ নেতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এখনও যারা বিতর্কে জড়াচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজেপি’র আর এক নেতা বলেন, আগামী দিনে দল বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে। তোলাবাজ নেতাদের শুধু দল থেকেই বহিষ্কারই নয়, জেলেও পাঠানো হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)