নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটিতে অভয়া স্মরণ অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শ্মশানঘাটে নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার নিহত চিকিৎসক পড়ুয়া অভয়ার বাবা খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানার পুলিশ পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে ও প্রাক্তন কাউন্সিলার সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন, বাধা প্রদান, মৃতদেহকে অসম্মানসহ মোট ৯টি ধারায় মামলা রুজু করেছে। ওই এফআইআরে অভিযুক্তের তালিকায় তিন জনের নাম ছাড়াও ‘অন্যান্য তৃণমূল কর্মী’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদিনই নির্মলবাবুর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এদিকে, অভয়ার ঘটনার দিন আর জি করের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জিঙ্গাসাবাদের জন্য চলতি সপ্তাহে ফের তলব করেছে সিবিআই।
বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং বলেন, ‘তদন্ত শুরু হয়েছে। তল্লাশিও চলছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।’ শেখর দেবনাথ খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগে বলেছেন, ‘ময়নাতদন্তের পর কাউন্সিলার সোমনাথ দে গ্রিন করিডর করে মেয়ের দেহ আমার বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। এরপর জোর করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বাড়িতে ঢুকে মেয়ের দেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে হুমকি দেয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত দাহ সম্পন্ন করে। আমাদের কোনো কাগজে সই করতে দেওয়া হয়নি।’ পুলিশ পানিহাটি শ্মশানের কর্মী ভোলানাথ পাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। মতামত জানতে নির্মলবাবু ও সোমনাথবাবুকে ফোন করা হলেও তাঁদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। তবে আরেক অভিযুক্ত তথা অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি হতাশ। অনেকবার তদন্ত হয়েছে। ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে আর কিছু বলতে চাইছি না। আমি কাজের সূত্রে বাইরে আছি। তদন্তের জন্য যতবার ডাকবে, ততবার যাব।’