পঞ্চায়েত প্রধানকে আদালতে হাজির করাতে নির্দেশ পুলিশকে
বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেস্তরাঁর আড়ালে চলছে অবৈধ কসাইখানা! স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের যোগসাজসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই কারবার। একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পরও সুরাহা হয়নি। অবশেষে হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশ দিয়ে অভিযুক্ত ওই পঞ্চায়েত প্রধানকে ধরে এনে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে অবিলম্বে বিষটির অনুসন্ধান করে পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
অভিযোগ, হুগলির পাণ্ডুয়ায় নামাজগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বছরের পর বছর একটি রেস্তরাঁর আড়ালে বিনা লাইসেন্সে চলছে একটি কসাইখানা। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে যোগসাজসে ইউসুফ মুসলিম হোটেল নামে ওই রেস্তরাঁর আড়ালে চলছে ওই অবৈধ কারবার। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও সুরাহা হয়নি। এমনকি জেলাশাসকের নির্দেশেও কর্ণপাত করেননি পঞ্চায়েত প্রধান। বাধ্য হয়ে শেষে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এলাকার বাসিন্দা পায়েল মাঝি। গত মার্চ মাসে আদালত স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানকে ফের লিখিত অভিযোগ জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধানকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি প্রধান। ফের একবার আদালতে মামলা হয়। অভিযুক্ত ওই হোটেল মালিকের আইনজীবী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অনুমতি নিয়ে ওই হোটেল চলছে। যদিও অভিযোগের ভিত্তিতে হুগলির (গ্রমীণ) পুলিশ সুপারকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। সেইসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধানের জবাব তলব করে আদালত। তবে আদালতের নির্দেশের পরও রিপোর্ট জমা দিতে পারেননি পুলিশ সুপার। উল্টে রিপোর্ট দিতে সময় চান রাজ্যের আইনজীবী। যা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে অপাতত শেষ সুযোগ হিসাবে সুপারকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও পঞ্চায়েত প্রধানের তরফে কোনো বক্তব্য জমা না পড়ায় রীতিমত ক্ষুব্ধ আদালত। ২০ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন ওই পঞ্চায়েত প্রধানকে ধরে এনে আদালতে হাজির করতে হবে। পাণ্ডুয়া থানার ওসিকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।