• বেআইনি পার্কিংয়ের রমরমা বারুইপুর শহরে, ফুটপাতেই বাইক-অটো স্ট্যান্ড
    বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। কিন্তু বারুইপুর শহরেই বছরের পর বছর চলছে বেআইনি পার্কিংয়ের রমরমা। যত্রতত্র অটো-টোটো-বাইকের দৌরাত্ম্য। কেউ কিছু বলার নেই। ফুটপাতে মানুষের হেঁটে যাওয়ার জায়গা নেই। সব জায়গাই দখল করেছে দোকান থেকে শুরু করে বাইক-অটো স্ট্যান্ড। বেজায় ক্ষুব্ধ নাগরিকরা। অভিযোগ, পুলিশ, প্রশাসন সব দেখে শুনেও ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে। বারংবার প্রশাসনের একাধিক স্তরে দরবার করেও সুরাহা মেলেনি। যদিও বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, এই ব্যাপারে মাইকিং করা হচ্ছে। এবারে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। 

    বারুইপুর রেলগেটের পশ্চিম দিকে আছে স্টেশন ফিডার রোড। সেই পশ্চিম দিকেই রেলগেট পার হয়ে নমিতা সেবায়তনের কাছে অটো স্ট্যান্ড গজিয়ে উঠেছে। কিছুটা এগিয়ে কালীতলার মোড়, যেখান থেকে ১০০ মিটার দূরে বারুইপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম। যেতে লাগে ২ মিনিট। কিন্তু যানজটে পড়ে সেই সময়টাই হয়ে যাচ্ছে ২০ মিনিট। এই মোড়ের দু’দিকে বড়ো বড়ো দোকান, বিপণি। তার কাছেই আবার অটো স্ট্যান্ড। এর উল্টোদিকে মেন রাস্তায় আর একটা অটো স্ট্যান্ড। চালকরা রাস্তায় টোটো বা বাইক– যে যাঁর মতো রেখে দেন। দোকানগুলির সামনেও বাইকের লম্বা লাইন। কেউ বলার নেই। ফলে অনেকেই স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে পারেন না। অ্যাম্বুলেন্সও এই রাস্তা দিয়ে যেতে পারে না। ফুটপাতেও বাইক দাঁড়ানো থাকে।

    কিছুটা এগিয়ে উমাচরণ রায় রোড। এখানেও দু’দিকে ফুটপাত দখল হয়ে গিয়েছে। রাস্তাতেই যত্রতত্র দোকান বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। মানুষের হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। গাড়ি তো দূর অস্ত। ১ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে বের হলেই অটো স্ট্যান্ড। টোটো যত্রতত্র। যাত্রীরা সহজে স্টেশনে ঢুকতে পারেন না। এবার মেন রোড ধরে থানার দিকে এগলে দেখা যাবে ফুটপাতও দখল। দোকানের সামনে ফুটপাতে চেয়ার পেতে গল্পের আসরে ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতেই দোকানের জিনিসপত্র উঠে এসেছে। রাস্তার দু’ধারে যত্রযত্র বাইক দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু যাত্রী উধাও। থানার পাশেই ফুটপাতে অটো স্ট্যান্ড। এর উল্টোদিকে আরও একটি অটো স্ট্যান্ড গজিয়ে উঠেছে। রাস্তা হয়েছে সংকীর্ণ। বারুইপুর রেলগেটের পূর্বদিক। এখানে রেলগেট থেকে স্টেশন যেতে পথে অটো-টোটোর দাপাদাপি। স্টেশন থেকে বের হলেই অটো-টোটোর মধ্যে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা লেগে যায়। ট্রাফিক পুলিশ থাকে নামেই। যানজটে পড়ে মানুষকে নাজেহাল হতে হয় দিনের পর দিন।

    সন্ধ্যার পরে রেলগেটের দু’দিকে দখল নেয় অটো ও টোটো। যে যার মতো মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে যাত্রী তোলে। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল ও হাসপাতাল বাজারের সামনে অটো সকাল থেকে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারুইপুরের এই সমস্যা মেটানোর জন্য প্রশাসনের কোনো সদিচ্ছাই দেখা যায় না। পুলিশ নামে একদিন অভিযান চালায়। তারপরে আবার যে কে সেই অবস্থা।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)