• গাড়ির চাকায় পিষে মৃত্যু পোষ্য বিড়ালের, হুলস্থুল বালিগঞ্জে
    বর্তমান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আদরের সিম্বা আর নেই। চারচাকার এক বিলাসবহুল গাড়ি পিষে দিয়েছে তাকে। কতই বা বয়স হবে, বড়জোর পাঁচ মাস। এই ছোট্ট সিম্বাকে অকালে হারিয়ে মুষড়ে পড়েছে বালিগঞ্জের সন্দীপকুমার দাসের পরিবার। কান্না থামছে না সন্দীপবাবুর মেয়ের। তার খেলার সঙ্গীকে উন্মুক্ত রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বুক ভেঙেছে তার। দুঃখে খাওয়া ভুলেছে মেয়ে। এ নিয়ে থানা-পুলিশ পর্যন্ত হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছে দাস পরিবার। পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গিয়েছে সিম্বার দেহ।

    সিম্বা হল সন্দীপবাবুর পোষা বিড়াল। সাদা-শ্যামলা মোলায়েম লোমে আবৃত ছিল তার শরীর। সারাদিনই সে খেলে বেড়াত গোটা বাড়িজুড়ে। উঠে বসত কোলে, বিছানায়। এহেন এক ‘কিউট’ বিড়ালের প্রতি পরিবারের সদস্যদের টান যে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। রবিবার বিকালের দিকে সিম্বা একাই ছিল বাড়িতে। বাড়িটি বালিগঞ্জ থানা এলাকার দেওধর স্ট্রিটে। সন্দীপবাবুর স্ত্রী মেয়েকে আঁকা শেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা ফিরে এসে দেখেন, আদরের সিম্বা রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সামনে রাস্তার উপর পড়ে রয়েছে। তা দেখে আঁতকে ওঠেন মেয়ে ও মা। কোনোভাবে সিম্বা বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার উপর চলে এসেছিল। কে চাপা দিল, কোন গাড়ি পিষে দিল সিম্বাকে? খোঁজ করতে গিয়ে তাঁরা এক প্রত্যক্ষদর্শীর হদিশ পান। তিনি জানান, ওই পাড়াতেই চার-পাঁচটি বাড়ি পরে থাকে এক ব্যবসায়ী পরিবার। ওই বাড়ির মেয়ে চারচাকার বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় পিষে দিয়েছেন বিড়ালটিকে। দুর্ঘটনার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই পোষ্যের। জানা গিয়েছে, সদ্যই গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেয়েছেন ওই তরুণী।

    সন্দীপবাবুর সপ্তদশী মেয়ে ছাড়ার পাত্রী নয়। সে সরাসরি ফোন করে বালিগঞ্জ থানার ওসিকে। মৌখিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি এক অফিসারকে পাঠান ঘটনাস্থলে। তখনও বিড়ালের দেহটি রাস্তাতেই পড়ে ছিল। মেয়ে জানায়, তারা মামলা দায়ের করবে। উচিত শিক্ষা দেবে ঘাতক গাড়ির চালককে। শেষমেশ বালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে পুলিশ। তবে যে ক’টি ধারা দেওয়া হয়েছে, তা সবই জামিনযোগ্য বলে জানা গিয়েছে। বিড়ালের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বেলগাছিয়ায় পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    এদিকে, এই ঘটনায় পথে নেমেছে পশুপ্রেমী সংগঠনের লোকজন। তাঁরা দুর্ঘটনায় সিম্বার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছে ওই গাড়িচালককে। পশুপ্রেমীদের বক্তব্য, পশুদের উপর অত্যাচারের মাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে। রাস্তায় কুকুর, বিড়াল থাকলে 

    অনেক চালকই গ্রাহ্য না করে, 

    তাদের উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেয়। এসব অন্যায়। 
  • Link to this news (বর্তমান)