বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় ভারত কোথায়? সংসদে লিখিতভাবে জানাল মোদি সরকার
প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
গতবছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় ভারত চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। বছর শেষে কেন্দ্র সরকারি সূত্র জানায়, জাপানকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তকমা পেয়েছে ভারত। সেসময়ে ভারতের অর্থনীতির মোট মূল্য ছিল ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবার সংসদ সেই নিয়ে মুখ খুলল মোদি সরকার। মঙ্গলবার অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ছিল বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি।
রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের জবাবে লিখিতভাবে পঙ্কজ জানান, ‘আইএমএফ ক্রমতালিকা তৈরি হয় নমিনাল জিডিপির ভিত্তিতে। মার্কিন ডলারের বর্তমান দর অনুযায়ী ক্রমতালিকা নির্ধারিত হয়। অর্থনীতির র্যাঙ্কিং বদলের নেপথ্যেও বেশ কয়েকটি কারণ থাকে যেমন ডলারের নিরিখে মুদ্রার দামে ওঠানামা, অন্য দেশের আর্থিক পরিস্থিতি, নিজের দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি-এসবের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় বদল হতে থাকে। গত অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি ছিল ৩.৯২ লক্ষ কোটি ডলার। আইএমএফ ক্রমতালিকায় ভারত ছিল ষষ্ঠ স্থানে।
প্রাথমিকভাবে মোদি সরকার টার্গেট করেছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হিসাবে তুলে ধরা। ব্যাঙ্কিং বিনিয়োগ সংস্থা জেফ্রিসের অর্থনীতি মূল্যায়নের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ পাঁচ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ফেলবে ভারত। মোটামুটিভাবে ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতকে তৃতীয় করার লক্ষ্য রাখছে মোদি সরকার। সেটা করতে পারলে ২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড়সড় অ্যাডভান্টেজ হতে পারে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অন্যতম অভিযোগই হল অর্থনীতির দিকে নজর না দেওয়া। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার শুধুই নিজেদের এজেন্ডা পূরণের চেষ্টায় ব্যস্ত। অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকারের লক্ষ্য ছিল ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি হয়ে ওঠা। এখনও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তবে ভারত পৌঁছে গিয়েছে ৩.৯২ লক্ষ কোটিতে। আর্থিক বৃদ্ধির এই হার ধরে রাখতে পারলে বিরোধীদের অভিযোগের পালটা দেওয়ার হাতিয়ার খুঁজে পাবে গেরুয়া শিবির।