৪৭৫ কিমি পেরিয়ে ‘গেমতুতো’ বন্ধুদের দেখতে এসে বিপদ! গঙ্গারামপুরে লজে পাকড়াও ৩ নাবালক
প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
মোবাইল গেমের মাধ্যমে আলাপ হওয়া বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা। বাড়ি থেকে ৪৭৫ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের (Gangarampur) তিন নাবালক। তাদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, ১৫,১৬ এবং ১৭ বছর বয়সি ওই নাবালকেরা পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার বাসিন্দা। বেশ কয়েক মাস ধরে অনলাইনে মোবাইল গেম খেলত ওই নাবালকেরা। সেই সূত্রে তাদের গঙ্গারামপুরের কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে আলাপ হয়। তারা দেখা করবে বলে স্থির করে। আর সে কারণে গত সোমবার কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরয়। পাঁশকুড়া থেকে ট্রেনে চড়ে কলকাতায় আসে। তেভাগা এক্সপ্রেসে চড়ে চলে যায় গঙ্গারামপুরে। রাত ৯টা নাগাদ গঙ্গারামপুরের লজে পৌঁছয়।
পরিকল্পনা ছিল মঙ্গলবার সকালে ‘গেমতুতো’ বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার। তবে তার আগে কারসাজির পর্দাফাঁস। লজকর্মীরা পরিচয়পত্র চান। তাদের দেওয়া নথিপত্র দেখে তাঁরা বোঝেন প্রত্যেকে নাবালক। কথাবার্তাতেও রয়েছে হাজার অসংগতি। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ তড়িঘড়ি লজে পৌঁছয়। ওই তিনজনকে পাকড়াও করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মোবাইল গেমের মাধ্যমে সম্ভবত আর্থিক লেনদেন করত তারা। আর সে কারণে বাড়িতে কাউকে কিছু না জানিয়ে গেমের সঙ্গী ওই কিশোরদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। আপাতত ওই নাবালকদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। তাদের বাড়ি পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন তিন নাবালকের পরিবারের লোকজন।
প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের দাবি, বর্তমানে খুদেদের স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। গেমের নেশায় অধিকাংশ বুঁদ। মোবাইলের নেশা কাটাতে পারেন একমাত্র শিশুর বাবা-মা। বাড়িতে মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। এছাড়া খুদেকে বই কিংবা অন্যান্য খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখার চেষ্টাও করতে হবে। নইলে যেকোনও মুহূর্তে বড়সড় কোনও বিপদ ঘটতে পারে।