• ‘শ্মশানে গিয়েছিলাম, কিন্তু ভিতরে ঢুকিনি’, অভিযোগ উড়িয়ে দাবি অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জীবের
    প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন করে খুলেছে আর জি কর ফাইলস। ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী পানিহাটির শ্মশানঘাটে অভয়ার দেহ সৎকারের সময় কি ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এহেন নির্দেশের পরেই খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভয়ার বাবা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। যদিও নিহত চিকিৎসকের প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আপত্তি নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    সঞ্জীবের বক্তব্য, অভিযোগকারীর ফোন পেয়েই তিনি পরিবারের কাছে যান। হাসপাতালে, থানা, বাড়ি ও শ্মশানে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন, কাগজপত্রের কাজেও সাহায্য করেন। কিছু নথিতে তাঁর সইও রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এত কিছুর পর এফআইআরে তাঁকেই ‘অচেনা’ বা ‘চিনি না’ বলা হল কীভাবে? দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সঞ্জীব। তাঁর দাবি, মৃতার বাবা-মায়ের সঙ্গে শ্মশানে গেলেও তিনি ভিতরে ঢোকেননি। ফলে ভিতরে কী হয়েছিল বা কে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা তাঁর জানা নেই।

    এতদিন অভিযোগের জবাব না দেওয়ার কারণ হিসেবে সঞ্জীবের বক্তব্য, মেয়েকে হারিয়ে বাবা দিশাহারা হয়ে বা কারও পরামর্শে অভিযোগ করে থাকতে পারেন। এখন বিষয়টি তদন্তাধীন। পুলিশ বা সিবিআই ডাকলে সহযোগিতা করবেন। তাঁর কথায়, “আমার যদি কোনও ভুল বা অপরাধ থেকে থাকে, শাস্তি মাথা পেতে নেব। চাই আসল সত্য সামনে আসুক।”

    বলে রাখা প্রয়োজন, পানিহাটিতে অভয়ার স্মরণসভায় যোগ দিয়ে দেহ সৎকারে ‘বেআইনি কাজ’-এর অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যেই তিন জনের নাম করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই থানায় অভিযোগ করেন অভয়ার বাবা। অভিযোগ, ময়নাতদন্তের পর দেহ বাড়িতে এলেও পরিবারের সদস্যদের শেষশ্রদ্ধা জানানোর মতো পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও কয়েকজন তড়িঘড়ি দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। আত্মীয়দের শেষবার দেখার সুযোগ এবং ধর্মীয় আচার পালনের জন্যও যথেষ্ট সময় মেলেনি বলে অভিযোগ। দাহের নথি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভয়ার বাবা।

    তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে পরিবারের কাউকে সই করতে দেওয়া হয়নি। পরিবারের বদলে অন্যদের নাম ও সই রয়েছে। সূত্রের খবর, নথিতে চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের সই ছিল। শ্মশানে আগে পৌঁছনো দু’টি দেহের আগেই অভয়ার দেহ দাহ করা হয় বলেও অভিযোগ। তড়িঘড়ি দেহ দাহের পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভয়ার বাবা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)