এ ভাবেও ফিরে আসা যায়! গোটা ম্যাচে অসংখ্য সুযোগ নষ্ট করা। গোলের কাছে গিয়েও বারবার মিস। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে থাকা। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরাও বোধ হয় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি মহম্মদ রশিদ, পিভি বিষ্ণুরা। ৯০ মিনিটের মাথায় জয় গুপ্তার হেড। এক্সট্রা টাইমে গড়াল ম্যাচ। বাকিটা যেন স্বপ্নের মতো। অতিরিক্ত সময়ে মাঠ জুড়ে শুধুই যেন লাল-হলুদ ব্রিগেডের দাপট। শেষ ১২ মিনিটে গোল রশিদ এবং সুপার-সাব ডেভিড ও রোহিত দানুর। এক গোলে পিছিয়েও কুয়েতের দল আল-আরবিকে ৪-১ ফলে উড়িয়ে AFC Champions League 2-এর মূলপর্বে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল।
ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে আরও একবার বিদেশি দলের বিরুদ্ধে দেশের মুখ উজ্জ্বল করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। বৃষ্টিভেজা যুবভারতীতে প্রিয় দলের জয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা।
পাঁচ বিদেশি নিয়ে শুরু করে আল আরবি। উল্টো দিকে ইস্টবেঙ্গলে ছিলেন দুই বিদেশি। দানি রামিরেজ ও মহম্মদ রশিদকে মাঝমাঠে রেখে প্রথম একাদশ সাজায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। তবে ম্যাচের শুরুটা আক্রমণাত্মক ছন্দেই করে আল আরবি। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল।
৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া রশিদের জোরালো শট বাঁচিয়ে দেন আল-আরবির গোলকিপার আব্দুলওয়াহাব। দুই উইং দিয়ে বারবার আক্রমণে ওঠেন জেসিন টিকে ও এডমুন্ড লালরিনডিকা। তবে লাভের লাভ হয়নি। একাধিক সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ১৯ মিনিটে গোলের সামনে দাঁড়িয়ে সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন জিকসন সিং।
২৩ মিনিটের মাথায় গোলের একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন আল আরবির কেনেয়ান মালেকো। তবে তাঁর শট গোললাইন থেকে বাঁচান ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার গিল। কিছুক্ষণ পরে বাঁ প্রান্ত থেকে দারুণ স্কিল দেখিয়ে বক্সে ঢুকে শট না নিয়ে ব্যাক পাস করেন এডমুন্ড। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে ইস্টবেঙ্গলের বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও বাইরে হেড দেন মালেকো। দুই দলের সুযোগ নষ্টের কারণে ০-০ ফলে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
খেলার গতি প্রকৃতি পাল্টায়নি দ্বিতীয়ার্ধেও। শুরুতেই গোলকিপারকে এক পেয়েও সহজ সুযোগ মিস করেন বিপিন সিং। গোলের খোঁজে ৭১ মিনিটে পিভি বিষ্ণুকে নামান হাবাস। গোটা ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা দানি রামিরেজকে তুলে নেন তিনি। তবে খেলার গতির বিরুদ্ধে ম্যাচের মোড় ঘোরায় আল আরবি।
গতিতে পরাস্ত হয়ে ৭৪ মিনিটের মাথায় নিজেদের বক্সে মালেকোকে ফাউল করে বসেন ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডার সন্দীপ মান্ডি। ধাক্কা মারেন আল-আরবির স্ট্রাইকারকে, জার্সি ধরেও টানেন। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে গোল করেন নাইজিরিয়ান উইঙ্গার ইওয়ালা। সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও সেভ করতে পারেননি গিল। ৭৬ মিনিটে লিড নেয় আল আরবি।
গোলের খোঁজে অল আউট আক্রমণে যায় ইস্টবেঙ্গল। জেসিন টিকের জায়গায় ক্রিস ইকোনোমিডিস নামেন। অন্য দিকে বিপিনকে তুলে রোহিত দানুকে নামান হাবাস। এর পরেই আসে গোল। কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠা রোহিতকে ফাউল করেন আল আরবির এক প্লেয়ার। ফ্রি-কিক পায় ইস্টবেঙ্গল। সেটপিস থেকে বক্সে বল ভাসান রশিদ। সবাইকে টপকে লাফিয়ে জোরালো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন ডিফেন্ডার জয় গুপ্তা। ৯০ মিনিটে ম্যাচের স্কোর ১-১ করে লাল-হলুদ ব্রিগেড। খেলা গড়ায় এক্সট্রা টাইমে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ১০৩ মিনিটে দারুণ ব্লক করেন সন্দীপ মান্ডি। তবে ১০৮ মিনিটে জ্বলে ওঠেন রশিদ। রোহিত দানুর শট আল আরবির ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। ফিরতি বলে বক্সের বাইরে কোণ থেকে জোরালো হাফ-ভলিতে গোল করেন মহম্মদ রশিদ। গোলের পরে ডেভিড ও রোহিত কুমারকে নামান হাবাস।
পরিবর্ত হিসেবে নেমে জ্বলে উঠলেন ডেভিড। ১১৭ মিনিটে দুরন্ত কাউন্টারে উঠে শট নেন ক্রিস। সেই বল বাঁচান আল আরবির গোলকিপার। তবে ফিরতি বল পেয়ে যান ডেভিড। গোলকিপারকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করে গোল করেন ডেভিড। সেখানেই থামেনি ইস্টবেঙ্গল।
ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন রোহিত দানু। বাঁ দিক থেকে আক্রমণে ওঠেন বিষ্ণু। তিনি বল বাড়ান ডেভিডকে। সেখান থেকে বল পেয়ে ফাঁকা গোলে জড়িয়ে দেন রোহিত দানু। ৪-১ গোলে ম্যাচ জেতে ইস্টবেঙ্গল। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি।