• সুজিতের অ্যাকাউন্টে নিয়োগ দুর্নীতির ৮ কোটিরও বেশি টাকা, হাই কোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি ইডির
    প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • কলকাতা হাই কোর্টে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর জামিন মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ আগস্ট। সেদিন ইডির বক্তব্যের জবাব দেবেন সুজিতের আইনজীবী। বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুনানিতে ইডির আইনজীবী এসভি রাজু অভিযোগ করেন, এটি নিয়োগ সংক্রান্ত বড় স্ক্যাম। সুজিতের নির্দেশে বিপুল প্রার্থীকে বেআইনিভাবে পুরসভায় নিয়োগ করা হয়। ৩৪০ জনের সুপারিশের মধ্যে ২৮৬ জন অযোগ্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা নেওয়া হত। শুধু দক্ষিণ দমদম পুরসভাতেই ২৮৪টি বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। ইডির দাবি, সুজিতের কাছে ৮.৮ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে। পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে।

    অয়ন শীলের বয়ানের উদ্ধৃতি দিয়ে ইডির আইনজীবী বলেন, “প্রার্থীদের সুজিত নিজে রেফার করতেন। নিতাই দত্তের বাড়ি ও পুরসভা থেকে প্রার্থী তালিকা মিলেছে। মোহিনী বোসের অ্যাকাউন্টে ৫২ লক্ষ টাকা এবং একটি ধাবা থেকে বিপুল টাকা উদ্ধার হয়।” বিচারপতি জেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইডি জানায়, তদন্ত এখনও চলছে। মন্ত্রী সুজিত বসুর জামিন মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ আগস্ট। সেদিন ইডির বক্তব্যের জবাব দেবেন সুজিতের আইনজীবী।

    উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির স্ক্যানারে সুজিত বসু। অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলার তদন্তের স্বার্থে গত ৬ এপ্রিল, ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু করে বিধানসভা ভোট পর্বের মধ্যে একাধিকবার ইডির তরফে হাজিরার নোটিস পান প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তখন নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে সময় চেয়ে হাই কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনে নির্বাচন চলাকালীন ইডির হাজিরা এড়িয়ে ছিলেন বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী। ভোট মিটতেই পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের সহযোগিতায় গত ১ মে সল্টলেক সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন সুজিত বসু। সঙ্গে ছিলেন তাঁর আইনজীবী। দীর্ঘক্ষণ সময় কাটিয়ে তিনি বেরন। এরপর গত ১২ মে তাঁকে প্রথমে আটক করেন তদন্তকারীরা। আইনি পদ্ধতি শেষে খানিক পরই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)