• ছড়িয়ে রয়েছে মূত্র ভর্তি বোতল-নোংরা পোশাক, কানওয়ার যাত্রা শেষ হতেই ৭০০০ টন আবর্জনায় ‘নরক’ হরিদ্বার
    এই সময় | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় জল ঢালতে দেবভূমিতে নেমেছিল পূণ্যার্থীদের ঢল। কানওয়ার যাত্রা উপলক্ষে চলতি বছর উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে গিয়েছিলেন প্রায় ৫ কোটি পুণ্যার্থী। কিন্তু কানওয়ার যাত্রা শেষ হতেই বদলে গেল হরিদ্বারের ছবি। গঙ্গার ঘাট থেকে রাস্তা, পার্কিং এলাকা থেকে শৌচাগার—সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে প্লাস্টিক, পোশাক, জল নেওয়ার বাঁকের অবশিষ্ট অংশ, মূত্র ভর্তি বোতল-সহ নানা ধরনের বর্জ্য। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার টন আবর্জনা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    স্থান: হরিদ্বার, উত্তরাখণ্ড

    উপলক্ষ: ২০২৬ সালের কানওয়ার যাত্রা

    পুণ্যার্থীর সংখ্যা: প্রায় ৪.৮ কোটি কানওয়ারিয়া

    সরানো হয়েছে: প্রায় ৭,০০০ টন আবর্জনা

    হর কি পৌড়িতে: মূত্রভর্তি প্লাস্টিকের বোতল-সহ নানা বর্জ্য

    সাফাইয়ে প্রযুক্তি: ড্রোনের মাধ্যমে বর্জ্য চিহ্নিতকরণ

    নতুন উদ্যোগ: পরীক্ষামূলকভাবে সোলার সেন্সর ডাস্টবিন মোতায়েন

    গঙ্গোত্রীর অবস্থা: প্রায় ৫৭ হাজার পুণ্যার্থীর পর ৫৭ বস্তা আবর্জনা সংগ্রহ

    প্রশাসনের পদক্ষেপ: রাতভর বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে

    মূল উদ্বেগ: প্লাস্টিক দূষণ, বিপুল বর্জ্য এবং তীর্থস্থানের পরিচ্ছন্নতা

    প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে শিবভক্তদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব হলো 'কানওয়ার যাত্রা'। হরিদ্বার থেকে গঙ্গার জল তুলে, সেই জলের কলস বাঁকে বসিয়ে দীর্ঘ পথ হাঁটতে থাকেন কানোয়ারিরা। তার পরে নিজ এলাকায় গিয়ে কলসের জল শিবলিঙ্গে ঢেলে ও শিবমন্দিরে পুজো দিয়ে তাঁরা যাত্রা শেষ করেন। এই বছর পুণ্যার্থীদের সংখ্যা ছিল নজিরবিহীন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৪.৮ কোটি কানওয়ারিয়া এ বার শোভাযাত্রায় অংশ নেন, যা গত বছরের প্রায় ৪.৫ কোটির সংখ্যাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের কয়েক সপ্তাহের উপস্থিতি যে হরিদ্বারের মতো ছোট শহরের পরিকাঠামোর উপরে বিশাল চাপ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য। রাস্তা, ঘাট, শৌচাগার, পার্কিং এলাকা এবং অস্থায়ী শিবির—সব জায়গাতেই তৈরি হয়েছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য।

    কানওয়ারিয়ারা ফিরে যাওয়ার পর সেই বর্জ্য সরানোই এখন হরিদ্বারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরসভা জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ হাজার টন আবর্জনা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পাঠানো হয়েছে। বর্জ্যের স্তূপ এতটাই বড় হয়েছে যে বহু জায়গায় তা কার্যত ছোট পাহাড়ের মতো দেখাচ্ছে।

    গঙ্গার তীরে অবস্থিত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থান হরিদ্বার। আর সেই শহরের প্রতীক হয়ে ওঠা হর কি পৌড়ির অস্বস্তিকর ছবি সামনে এসেছে। কানওয়ার যাত্রা শেষের পরে হরিদ্বারের অন্যতম পবিত্র এবং পরিচিত এই ঘাটের চেঞ্জিং রুমে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে জলে ভরা নয়, বরং মূত্রভর্তি প্লাস্টিকের বোতল। সাফাইকর্মীরা গ্লাভস বা মাস্ক ছাড়াই শাবল দিয়ে সেই বোতল সরাচ্ছেন—এমন ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

    স্থানীয়দের বক্তব্য, গঙ্গায় পবিত্র স্নান এবং গঙ্গাজল সংগ্রহের জন্য বহু মানুষ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হরিদ্বারে আসেন। অথচ যাত্রা শেষে সেই পবিত্র স্থানেই এভাবে বর্জ্য ফেলে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    কানওয়ার যাত্রা শেষ হওয়ার পরে হরিদ্বারের পূর্বের রূপ ফেরাতে প্রশাসন এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সাফাই অভিযান চালাচ্ছে। হরিদ্বারের পুর কমিশনার নন্দন কুমার জানিয়েছেন, শ্রাবণের শিবরাত্রির পর থেকেই সাফাইকর্মীরা রাতভর কাজ করে ঘাট, পার্কিং এলাকা এবং রাস্তা পরিষ্কার করছেন। শুধু ঘাট পরিষ্কার করাই নয়, শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত বর্জ্য সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ আবর্জনা একসঙ্গে সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    মেলার পরে শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হরিদ্বার পুরনিগম এই প্রথমবার ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে। গঙ্গার প্রধান ঘাট, কানওয়ার যাত্রার পথে এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে কোথায় আবর্জনা জমে রয়েছে, তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, বর্জ্যের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘সোলার সেন্সর ডাস্টবিন’ও মোতায়েন করা হয়েছে। হরিদ্বারের পুরকমিশনার নন্দন কুমার জানিয়েছেন, ‘মেলা শেষ হলেই সাফাইয়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। শহরের প্রতিটি ঘাট, রাস্তা ও পাবলিক স্পেস সম্পূর্ণরূপে পূর্বের নির্মল অবস্থায় না ফেরানো পর্যন্ত আমাদের এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

    কানওয়ার যাত্রার পর বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ শুধু হরিদ্বারেই সীমাবদ্ধ নেই। গঙ্গোত্রীর পরিস্থিতি সেই চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। প্লাস্টিকমুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে গঙ্গোত্রীকে, অথচ সেখানে সেখানেও বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক এবং অন্যান্য বর্জ্য জমার খবর সামনে এসেছে। প্রায় ৫৭ হাজার পুণ্যার্থী সেখানে যাওয়ার পরে বন দপ্তর বিশেষ সাফাই অভিযান চালিয়ে ৫৭ বস্তা আবর্জনা সংগ্রহ করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক এবং পরিত্যক্ত পোশাকও ছিল।

    প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, কানওয়ার যাত্রা শেষ হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭,০০০ টন আবর্জনা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৪.৮ কোটি কানওয়ারিয়া হরিদ্বারে এসেছিলেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪.৫ কোটি।

    হর কি পৌড়ির চেঞ্জিং রুম-সহ বিভিন্ন এলাকায় প্লাস্টিক, পোশাক এবং অন্যান্য বর্জ্যের পাশাপাশি মূত্রভর্তি প্লাস্টিকের বোতল পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।

    হরিদ্বার পুরনিগম রাতভর সাফাই চালাচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে বর্জ্য জমার জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে সোলার সেন্সর ডাস্টবিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

    না। কানওয়ার যাত্রার পর গঙ্গোত্রীতেও বিপুল বর্জ্য জমেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ৫৭ হাজার পুণ্যার্থীর যাতায়াতের পর সেখানে ৫৭ বস্তা আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

    প্রায় ৪.৮ কোটি মানুষের কয়েক সপ্তাহের উপস্থিতির ফলে প্লাস্টিক, পোশাক, খাবারের প্যাকেট, বোতল এবং অন্যান্য বর্জ্যের পরিমাণ ব্যাপক ভাবে বেড়েছে। এই বিপুল বর্জ্য সামলানোই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

  • Link to this news (এই সময়)