• বিশ্ব হাতি দিবসে সবেতন ছুটি কুনকিদের, ঘোষণা বনমন্ত্রীর
    এই সময় | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার ও চালসা: এখন থেকে বিশ্ব হাতি দিবসে সবেতন ছুটি পাবে কুনকি হাতিরাও। বুধবার আলিপুরুয়ারের জলদাপাড়ায় বিশ্ব হাতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের বন মন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণ এবং বন সুরক্ষার প্রশ্নে কুনকি হাতিদের ভূমিকার কথা বলে শেষ করা যাবে না। আর না-মানুষ হয়েও ওরা যখন সরকারি কর্মী, তাই এখন থেকে প্রতি বছর বন দপ্তরের কুনকি হাতিরা বিশ্ব হাতি দিবসে ছুটি পাবে।’

    এ দিন উত্তরবঙ্গের একাধিক বনকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ‘এলিফ্যান্ট স্কুল’ হিসেবে পরিচিত হলং সেন্ট্রাল পিলখানায় যান মন্ত্রী। সেখানে পৌঁছেই তিনি লক্ষ্য করেন, কুনকি হাতিদের পুজো–পাঠ শুরু হওয়ার আগে হলং নদীতে ওই হাতিদের স্নান করাচ্ছেন মাহুতরা। তখনই সবাইকে অবাক করে জুতো–মোজা খুলে প্যান্ট গুটিয়ে সটান নদীতে নেমে পড়েন বন মন্ত্রী। প্রিয়দর্শিনী, গজরাজ, ডায়না, তিস্তার মতো কুনকিদের গায়ে ঝামা দিয়ে ঘষে দেন তিনি।

    এরপরে সদ্যস্নাত হাতিদের গায়ে সর্ষের তেল মাখিয়ে শরীরে এঁকে দেওয়া হয় রংবেরঙের আল্পনা। তার পরে পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণে শুরু হয় ‘গজবন্দনা’। এ দিন কুনিকদের খাবারের মেনুতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। প্রতিদিনের একঘেয়ে ঘাস–বিচালি এবং ডাল-ছোলা-গুড়ের পুড়িয়ার পরিবর্তে তাদের খাওয়ানো হয় পাকা কলা, আখ–সহ হাতিদের প্রিয় ফল। বছরে একটা দিন হলেও স্বাদ বদল করতে পেরে বেজায় খুশি জলদাপাড়ার কুনকিরা। মন্ত্রী সকলের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, ‘বন্যপ্রানীদের প্রতি সংবেদনশীল হন। আমরা ওদের জায়গা দখল করে নিয়েছি। করিডর দখল হয়ে গিয়েছে। ওদের যাত্রাপথে যাতে বিঘ্ন না–ঘটে সে দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

    এ দিন জলপাইগুড়ির চালসা লাগোয়া একটি বেসরকারি রিসর্টে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় যোগ দেন মনোজ। সেখানে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘হাতিরা ভালো নেই। জঙ্গল শেষ করে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা সবে এসেছি, আমাদের সহযোগিতা করুন।’ ওই আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল ‘ওয়াইল্ড লাইভ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া’ এবং ‘স্পোর’ নামে দু’টি পরিবেশপ্রেমী সংগঠন। সভায় উত্তরবঙ্গের শীর্ষস্থরের বনাধিকারিক, প্রশাসনিক কর্তাদের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের ৩০টির বেশি চা–বাগানের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার হাতি সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ সন্দীপ তিওয়ারি বলেন, ‘শেষ দুই দশকে উত্তরে হাতির সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু তাদের গতিবিধির এলাকা কমে গিয়েছে। চা–বাগানে হাতি–মানুষ সংঘাত বেড়েই চলেছে।’

  • Link to this news (এই সময়)