• বন্ধকি শ্রম? বেকারি কারখানা থেকে উদ্ধার ১০ নাবালক শ্রমিক!
    এই সময় | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, রায়গঞ্জ: একটি বেকারি কারখানায় হানা দিয়ে দশ জন নাবালক-সহ মোট ১২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করল জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জের বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপদুয়ার এলাকায়। অভিযোগ, অগ্রিম টাকার বিনিময়ে এদের বেশিরভাগকে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলা থেকে এনে 'বন্ধকি শ্রমিক' হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল।

    জেলা প্রশাসনের অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের নেতৃত্বে এই অভিযান চলে। যৌথ এই অভিযানে পুলিশ ছাড়াও জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিট (ডিসিপিও), শিশু কল্যাণ কমিটি (সিডাব্লিউসি), শ্রম দপ্তর, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং রায়গঞ্জ ও ঝাড়খণ্ডের দুই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন।

    মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রায়গঞ্জের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা জানতে পারেন, অগ্রিম টাকা দিয়ে ঝাড়খণ্ডের পাকুড়-সহ পাশের জেলা মালদা ও মুর্শিদাবাদ থেকে কিছু নাবালকদের 'বন্ধকি শ্রমিক' হিসেবে রায়গঞ্জে এনে কাজ করানো হচ্ছে। বিষয়টি জেলাশাসককে জানানো হয়। তাঁর অনুমোদন নিয়ে প্রশাসনিক যৌথ একটি দল রায়গঞ্জ থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এই অভিযানে নামে। ঘটনাস্থল থেকে নাবালকদের উদ্ধার করা হয়। তবে মালিক পলাতক।

    জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়ার মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে। সবার পরিবারের সঙ্গে যোগোযোগ করা হচ্ছে। ওই কারখানায় কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ও ক্রিম রোল তৈরি করা হতো। অভিযোগ, সেখানে নাবালকদের দিয়ে ময়দা বহন, যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং উচ্চ তাপমাত্রার ওভেনে কাজ করানো হতো। পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ কাজ করার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি নিয়োগের সময় অগ্রিম টাকা দেওয়া, চলাফেরায় নজরদারি, মোবাইল ফোন জমা রাখা এবং ন্যূনতম মজুরির তুলনায় কম পারিশ্রমিক দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে ন'জন ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলা এবং দু'জন মালদা ও একজন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

    রায়গঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি জবা ভট্টাচার্য বলেন, 'আমাদের কাছে খবর আসে বিনা পয়সায় 'বন্ধকি শ্রমিক' হিসেবে প্রায় ৫০ জন নাবালকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। সেইমতো আমরা তা প্রশাসনকে জানাই। তারপর প্রশাসনের তরফে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মোট ১২ জনকে পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১০ জন নাবালক। দু'জনকে ঘরে তালা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমরা ওই কারখানার মালিক, ম্যানেজার ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি।'

    এ বিষয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কুলদীপ সোনাওয়ানে বলেন, 'উদ্ধার হওয়া নাবালক শ্রমিকদের আপাতত কর্ণজোড়ায় সূর্যোদয় হোমে রাখা হয়েছে। ওই বেকারির মালিকের খোঁজ চলছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শিশু শ্রম প্রতিরোধ-সহ একগুচ্ছ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)