এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। তরুণীর বয়স ৩২ বছর। তাঁর এক পুত্রসন্তান রয়েছে। যদিও সে নিয়মিত মায়ের কাছে থাকত না বলেই খবর। দমদম ক্যান্টনমেন্টের সুভাষনগর এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন তরুণী। বুধবার বৃষ্টির রাতে সেখান থেকেই ওই তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় দেহটি ঘরে পড়েছিল বলে দাবি এলাকার লোকজনের। দমদম থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ওই তরুণী অবৈধ কোনও কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর ধরে সুভাষনগরের ওই বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন তরুণী। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এক যুবকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল সেখানে। যুবকের বাড়ি বেদিয়াপাড়ার ঝিল কলোনি এলাকায়। এই ঘটনাকে খুন বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, বেদিয়াপাড়ার যুবক এই ঘটনায় যুক্ত।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শ্যামবাজারে তরুণীর আত্মীয়দের কাছে থাকত তাঁর তিন বছরের সন্তান। সুভাষনগরে তরুণী একাই থাকতেন। বেদিয়াপাড়ার ওই যুবকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল সেখানে। তরুণী কর্মসূত্রে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন বলেই বাচ্চাটিকে আত্মীয়দের কাছে রাখতেন।
বুধবার রাতে শিশুটিকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু ফোনে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলে বাড়িতে এসে খোঁজ নেন আত্মীয়রা। তখনই ঘরের মেঝেতে তাঁর নিথর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
খবর দেওয়া হয় দমদম থানায়। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে। এ দিকে ভাড়াবাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙা বলে অভিযোগ উঠছে। তবে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিশের।
বাড়ির মালিক জানান, এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে তিনি তা ভাবতেই পারেননি। স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই ওই দু’জনকে জানতেন তিনি। ঘটনার তদন্ত করছে দমদম থানার পুলিশ।
ঘটনাটি কোথায় ও কবে ঘটেছে?
বুধবার রাতে দমদম ক্যান্টনমেন্টের সুভাষনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
মৃত তরুণীর পরিচয় কী?
মৃতের বয়স ৩২ বছর, তাঁর একটি পুত্রসন্তান রয়েছে যে শ্যামবাজারে আত্মীয়দের কাছে থাকত এবং তিনি প্রায় দু'বছর ধরে সুভাষনগরে একাই ভাড়া থাকতেন।
দেহটি কী ভাবে প্রথম খুঁজে পাওয়া যায়?
শিশুটিকে মায়ের কাছে নিয়ে আসার কথা থাকলেও ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় আত্মীয়রা বাড়িতে এসে তাঁর রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
কার উপর সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা?
বেদিয়াপাড়ার ঝিল কলোনির এক যুবকের তরুণীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁরাই এই ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
মৃত্যুর কারণ কি নিশ্চিত হয়েছে?
না, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
পুলিশের হাতে কী প্রমাণ এসেছে?
ভাড়াবাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙা থাকলেও এলাকার অন্যান্য সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে।
বাড়ির মালিক কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন?
তিনি জানিয়েছেন, ওই তরুণী ও যুবককে তিনি স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই জানতেন। এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা তিনি কল্পনাও করেননি।