• একাধিক জেলায় বিঘার পর বিঘা সরকারি জমির মাটি বিক্রি! নয়া অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্ত
    প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে বেআইনিভাবে বিক্রি! আর এই অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশি তদন্তের নির্দেশ আদালতের। অভিযোগ, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই কাজ হয়েছে। আর এর পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি। শুধু তাই নয়, ৩০ জনের মধ্যে নাম রয়েছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ, কালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার। তবে এই বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন আলিফা। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নই। শুধুমাত্র প্রতিহিংসা করে এহেন অভিযোগ করা হচ্ছে। 

    কালীগঞ্জের বাসিন্দা বাপন ঘোষ গত ১৫ জুলাই কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে নদিয়ার কালীগঞ্জ ব্লক-সহ নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর এলাকার বিস্তীর্ণ সরকারি ও ভেস্টেড জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগকারী তাঁর অভিযোগে, প্রায় ৩৩ হাজার বিঘা জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরমাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ বাপনবাবু। এখানেই শেষ নয়, সরকারি জমির পাশাপাশি ওই সমস্ত এলাকায় থাকা গাছও কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে পরিবেশের ক্ষতি এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলে মামলাকারীর অভিযোগ। এই বিষয়ে পুলিশ, বন দপ্তর-সহ একাধিক জায়গাতে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি বাপন ঘোষের। উলটে তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ।

    যদিও রাজ্যে পালাবদলের পর ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানির পর বুধবার আদালতের বিচারক তরুণ কুমার মণ্ডল পুলিশকে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের বক্তব্য, আদালতে অভিযোগগুলি তুলে ধরা হয়েছিল এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাকারী বাপন ঘোষও আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে তাঁরা অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)