এই সময়, আসানসোল: অনেক দিন ধরেই বেআইনি ভাবে দখলে রেখে বাস করছিলেন। এ বার সেই বাড়ি বিক্রি করার জন্য রীতিমতো বিজ্ঞাপনই দিয়ে বসলেন একটি অনলাইন মার্কেট প্লেসে। দাম হেঁকেছেন তিন লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। যে সে বাড়ি নয় কিন্তু, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইসিএল–এর কর্মী–আবাসন!
যিনি এই কাজটি করেছেন, সেই কীর্তিমান ব্যক্তির নাম সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি ইসিএল–এর না কর্মী, না আধিকারিক। অবশ্য ইসিএল–এর কেউও সংস্থার আবাসন বিক্রি করতে পারেন না। বিষয়টি জানাজানি হতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে সংস্থার অন্দরে। দ্রুত ব্যবস্থাও নিয়েছে ইসিএল–এর নিরাপত্তা দপ্তর। অভিযোগ জানানো হয়েছে পুলিশে। আর কোনও ভাবে তা জানতে পেরেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন ওই বেআইনি দখলদার।
আবাসনটি রয়েছে ইসিএল–এর তিরাট কোলিয়ারিতে রঘুনাথ মুর্মুর মূর্তির কাছেই, সংস্থার সাতগ্রাম-শ্রীপুর এরিয়ার অন্তর্গত রতিবাটি গ্রুপ অফ মাইন্স–এর এলাকায়। অনলাইন মার্কেট প্লেসে বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫০০ বর্গফুট মাপের থ্রি বিএইচকে বাড়ি বিক্রি হবে। বাড়িতে তিনটি ঘর ছাড়াও একটি ডাইনিং হল, রান্নাঘর, বাথরুম, গাড়ি পার্কিং–এর জায়গা ও বাউন্ডারি ওয়াল রয়েছে।
সেই সঙ্গে বিজ্ঞাপনে সম্ভাব্য ক্রেতাদের টোপ দেওয়া হয়েছে, বাড়িটি কিনলে আজীবন নিখরচায় পাওয়া যাবে বিদ্যুৎ ও জল। উল্লেখ্য, ইসিএল তাদের কর্মী আবাসনগুলিতে এগুলি সরবরাহ করে বিনামূল্যে। সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে এই বিজ্ঞাপন পৌঁছে যায় ইসিএল–এর মুখ্য নিরাপত্তা আধিকারিক এস তিওয়ারির কাছে। তিনি বিষয়টি জানান সংস্থার সদর দপ্তরের টাস্ক ফোর্সকে। এর পরেই তদন্তে নামেন টাস্ক ফোর্সের সিনিয়র সিকিউরিটি ইনস্পেক্টর পীযূষ সিং এবং কৌশিক চক্রবর্তী।
ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই আধিকারিক ক্রেতা সেজে ওই বাড়িতে গিয়ে দখলদার সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন। সুব্রত তাঁদের বাড়ি ঘুরিয়ে দেখান ও দাম নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদেরও বলেন, যিনি এই বাড়ি কিনবেন, তাঁকে সারা জীবনের জন্য বিদ্যুৎ এবং জলের জন্য কোনও পয়সা দিতে হবে না। ওই দুই আধিকারিক সব ঘরের ছবি তোলেন। এর পরে তাঁরা রতিবাটি গ্রুপ অফ মাইন্স–এর এজেন্টকে সুব্রতর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে বলেন।
নির্দেশ পেয়ে রতিবাটি গ্রুপের চিফ ম্যানেজার রানিগঞ্জ থানার নিমচা ফাঁড়িতে তা দায়ের করেন। আর তা জানতে পেরেই উধাও হয়ে গিয়েছেন সুব্রত। ইসিএল–এর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, 'আমাদের বহু আবাসন বেআইনি ভাবে দখল হয়ে রয়েছে। কিন্তু এমন কোনও আবাসনকে অনলাইন মার্কেট প্লেসে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রির চেষ্টা এর আগে কেউ কখনও করেননি।'