পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তার। আরজি করের পড়ুয়ার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার নির্মল। গত ৯ অগস্ট পানিহাটিতে ডাক্তারি পড়ুয়ার স্মরণে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, আরজি করের ছাত্রীর দেহ তড়িঘড়ি দাহ নিয়ে নতুন করে তদন্তের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই নতুন FIR দায়ের হয়। নতুন FIR-এ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং জোরপূর্বক কাজ করানোর মতো অভিযোগ আনা হয়। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তিন জনের নামে মামলা রুজু করে ব্যারাকপুর কমিশনারেট। সেই মামলাতেই গ্রেপ্তার নির্মল ঘোষ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওডিশা থেকে নির্মলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনেকদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। দু’একবার নির্মলকে দেখা গেলেও তাঁকে ধরা যাচ্ছিল না। অবশেষে খড়দহ থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার। যদিও এ নিয়ে এখনও পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করের চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। নৃশংস সেই ঘটনার স্মৃতি আজও টাটকা! অভিযোগ উঠেছিল, তৎকালীন শাসকদলের মদতে এই ঘটনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ঢাকা পড়ে যায়। যার মধ্যে অন্যতম ওই পড়ুয়ার দাহ-পর্ব। প্রমাণ লোপাটের জন্যই তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে তাঁর পরিবার। বার বার তা নিয়ে সরব হলেও তৃণমূল আমলে তদন্ত এগোয়নি। তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই নতুন করে নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে আরজি করের ঘটনা নিয়ে। সেই নির্যাতিতার মা এখন বিজেপি বিধায়ক। কেন্দ্র সেই পানিহাটিই।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় দ্রুত দেহ দাহ করার বিষয়টি নিয়ে গত ৯ অগস্ট পানিহাটিতে দাঁড়িয়েই তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো শুরু হয় তদন্ত। নির্মল ঘোষের প্রত্যক্ষ মদতে এই দেহ দাহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ওই ছাত্রীর বাবা নতুন করে অভিযোগ করেন থানায়। জানান, ময়নাতদন্তের পরে মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে নাম আছে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের। এর পরেই এ দিন নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তারের ঘটনা।
সবিস্তার আসছে