বাদানুবাদ চলছিল শুনানির শুরু থেকেই। সওয়াল করার সময়ে বাক্যবাণে বিদ্ধ করছিলেন একে অন্যকে। আদালতে এই দৃশ্য অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এক সময়ে তা বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে, প্রধান বিচারপতির ভরা এজলাসে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে চিৎকার করে তাঁকে ‘চটিচাটা’ বলে আক্রমণ করলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। পাল্টা কল্যাণের তোপ, ‘তুমি তো বুট চাটা!’
মসজিদ থেকে মাইক সরানো সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। শুরুতেই মামলাকারী কল্যাণের সঙ্গে হালকা বচসা-বাদানুবাদে জড়িয়েছিলেন এজি। পরে যখন পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখনই সেই বচসা অন্য মাত্রায় পৌঁছয়।
এজি আদালতের কাছে অনুরোধ জানান, আগামী সোমবার বাদে যে কোনও দিন শুনানি করা হোক। তার প্রেক্ষিতে আদালত পরের বৃহস্পতিবার শুনানির কথা বলে। তা শুনে কল্যাণ জানান, তাঁর কিছু ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে ওই দিন। কিন্তু তাতে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ায় এজি-কে কটাক্ষের সুরে কল্যাণ বলেন, ‘রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল! উনি প্রভাবশালী, ক্ষমতাবান। তাই উনি যা চাইবেন, কোর্ট তা-ই করবে।’
কল্যাণের এই মন্তব্য শুনেই মেজাজ হারান এজি। চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘চটিচাটা। তুই চটি চেটে খা!’ এজির চিৎকার শুনে কয়েক মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কল্যাণ। তার পরে তিনিও চিৎকার করে এজির উদ্দেশে বলেন, ‘বুটচাটা! তুমি বুট চাটো বলে!’
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে কল্যাণকে থামানোর চেষ্টা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। সেই সময়ে কল্যাণের সাংসদ পদ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন অতিরিক্ত এজি বিল্বদল ভট্টাচার্যও। তার পরেই দু’পক্ষকে সতর্ক করে থামায় আদালত।