বাজারে বিক্রি হওয়া বহু প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে (Packaged Food) থাকে অতি মাত্রায় চিনি, নুন ও চর্বিজাতীয় পদার্থ। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। বৃহস্পতিবার এই ধরনের প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে সতর্কীকরণ লেবেল লাগানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) কেন্দ্রীয় সরকারকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল। রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতের মন্তব্য করে, “আপনারা না পারলে কাজটা (খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে সতর্কীকরণ লেবেল লাগানোর নির্দেশিকা) আমরাই করব।”
কেন্দ্রীয় সরকার এবং ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (এফএসএসএআই)-র অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের বেঞ্চের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি কোনও কর্পোরেট সংস্থার চাপে রয়েছে? আদালতের মন্তব্য, “বিষয়টি জনস্বাস্থ্য়ের, বিশেষত বেড়ে ওঠা শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। ফলে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্পোরেট চাপের প্রভাব থাকা উচিত নয়।”
বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ উঠেছিল জনস্বার্থ বিষয়ক মামলাটি। শুনানিতে আবেদনকারী অভিযোগ করেন, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের সংস্থাদগুলি পণ্যে লেবেলিংয়ে বিরোধী। ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত এফএসএসএআই-এর সভার কার্যবিবরণী উল্লেখ করে আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশের পরিপন্থী ছিল। এরপরেই এফএসএসএআই-কে ভর্ৎসনা করেন দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে সতর্কতামূলক লেবেল ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্প মহলের আপত্তির কথা উল্লেখ করে এফএসএসএআই অতিরিক্ত চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং নুনের দৈনিক সুপারিশকৃত মাত্রার বিষয়টি একটি সারণির মাধ্যমে উল্লেখের কথা জানায়। এই বিষয়ে বিচারকদের বেঞ্চ মন্তব্য করে, সরকার বড় কর্পোরেট সংস্থার চাপে রয়েছে। “ওই চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে”। ক্ষুব্ধ আদালত বলে, “সরকার কি নিজেই কাজটা (লেবেলিং) করবে, নাকি আমাদেরই আদেশ জারি করতে হবে?”
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) ব্রিজেন্দ্র চাহার এই বিষয়ে আদালতের কাছে সরকারের কর্মপন্থা ব্যাখ্যা করার অনুমতি চান। যদিও দুই বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আদালত যা নির্দেশ দিয়েছে, সরকারকে ঠিক তাই করতে হবে। এইসঙ্গে শীর্ষ আদালত প্রশ্ন করে, “যদি আপনারা তা করতে না পারেন, আমরা একটি আদেশ জারি করব।” শুনানি শেষে আদালত কেন্দ্রকে লেবেলিং বাস্তবায়নের জন্য দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক করেছে, “পরের বার রায় ঘোষণা করা হবে।”