• ভগ্নিপতির কাঁধে চেপে গিয়েছিলেন ‘জনতার দরবারে’, চাকরি পেলেন পূর্ব মেদিনীপুরের দিব্যাঙ্গ যুবক
    প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনও বাধা নয়, তা প্রমাণ করেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদার আন্দুলপোতা গ্রামের বাসিন্দা মন্টু দাস। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি এমএ এবং বিএড পাস করেন। কিন্তু উচ্চশিক্ষিত হয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছেন। আপার প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ভাগ্যে চাকরি জোটেনি। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। অবশেষে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার আসার পর, পূর্ব মেদিনীপুরের সভাধিপতির ‘জনতার দরবার’ তাঁর জীবনে নতুন আলোর দিশা দেখাল।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত শুরু করেছেন ‘জনতার দরবার’। সেখানে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে মানুষের সমস্যা শোনেন। সেই রকমই এক ‘জনতার দরবারে’ নিজের ভগ্নিপতির কাঁধে চেপে হাজির হয়েছিলেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবক মন্টু দাস। তিনি জেলা সভাধিপতির কাছে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মহীনতার অসহায় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। মন্টুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং শারীরিক অবস্থা দেখে জেলা পরিষদের সভাধিপতি তৎক্ষণাৎ সংবেদনশীল পদক্ষেপ নেন।

    বুধবার মন্টু দাসের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। মেচেদার শান্তিপুরের একটি পিএইচই দপ্তরের পাম্প অপারেটর হিসাবে তাঁর চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তাঁর যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মন্টুর হাতে একটি ব্যাটারিচালিত ট্রাই-সাইকেলও তুলে দেওয়া হয়েছে।চাকরি এবং ট্রাই-সাইকেল পেয়ে স্বভাবতই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মন্টু ও তাঁর পরিবার। প্রশাসনের এই মানবিক পদক্ষেপে খুশি এলাকার বাসিন্দারাও।
  • Link to this news (প্রতিদিন)